Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮, ০৬ মে ২০২১

ভালো ফলন হলেও করোনাকালে লিচু নিয়ে শঙ্কা!


নিলয় মাহমুদ সুজন | আপডেট: ১৭:২৬, এপ্রিল ২৬, ২০২১
 
 
 
 


লিচু বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা রসালো ফল লিচু। কোথাও কোথাও গত কয়েকদিন আগের বৃষ্টিতে একটু ক্ষতি হয়েছে । সব মিলিয়ে এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। তবে মন ভালো নেই চাষিদের। লিচু বিক্রি নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন। প্রতিবছর লিচুর ফুল ফোটার পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারীরা এসে লিচু বাগান কিনতেন। তারাই বাগান পরিচর্যাসহ ফল তুলে বাজারে বিক্রি করতেন। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে বেপারী না আসায় চাষিদেরই ঢাকাসহ বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করতে হবে। তাই এ নিয়ে আর্থিক ও শ্রমিক সংকটে আছেন তারা। গাজীপুর শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটির টেপিরবাড়ী গ্রামের লিচু চাষিদের সঙ্গে কথা বললে এমন আশঙ্কার কথাই জানান তারা।সাতকাহনের এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় চাষিদের । শ্রীপুরে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাগানে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান মালিকরা জানান, এবার কোনো রোগবালাই না হওয়া এবং সে রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় ফল হয়েছে গতবারের চেয়ে ভালো। তবে লিচু বাজারজাত করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তার কথা জানান। সেখানকার এক চাষি জানান, ছোট আকারের ১০ টি লিচু গাছ রয়েছে তার। ফুল ফোটার পরই বেপারীদের কাছে বাগান বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে সে সময় দেশে করোনা ছিল না। কিন্তু এখন লকডাউনের ফলে বাইরের বেপারীরা এলাকায় আসছেন না।শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের এক বাগান মালিক বলেন, 'আমার তিনটি বাগানে ৩শত টি লিচু গাছ রয়েছে। প্রতিবছর লিচুর মৌসুমে শুরু হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে পাইকার আসতে শুরু করে। পছন্দমতো দাম পেলেই বাগান বিক্রি করে দিতাম। লিচু লাল হওয়া পর্যন্ত তারা নিজ উদ্যোগে বাগান পরিচর্যা করতেন। এ বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও লকডাউনের কারণে তারা আসছেন না। নিজেরাই বাগান পরিচর্যা করছি। শেষ পর্যন্ত খরচ তুলতে পারব কিনা শঙ্কায় আছি।'বাগান মালিক এড.আবুল কাসেম আজাদ বলেন, 'লিচুর ফুল ফোটার শুরুতে এলাকায় মধুর বক্স নিয়ে মৌচাষিরা আসতেন। তারা ফুল থাকাকালীন প্রায় ১৫ দিনের মতো মধু সংগ্রহ করতেন। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে লিচুর মধু সংগ্রহের প্রক্রিয়াটিও বাদ পড়েছে।'