Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮, ০৬ মে ২০২১

সুবর্ণচরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সূর্যমুখীর হাসি


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ২০:৪০, এপ্রিল ১৬, ২০২১
 
 
 
 


নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সূর্যমুখীর হাসি। মাঠের পর মাঠ এখন হলুদে ভরে গেছে। চাষিদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আনন্দেও অন্ত নেই। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সূর্যমুখীর মনোরম দৃশ্য দেখতে সুবর্ণচরে ভিড় জমাচ্ছেন তারা।সুবর্ণচরের প্রতিটি ইউনিয়নে কম বেশী চাষ হয়েছে সূর্যমুখীর। মাঠের পর মাঠ ছেয়ে আছে হলুদের আভায়। যে দিকে চোখ যায় সেদিকেই হলুদের ছড়াছড়ি। চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর এক অপরূপ সৌন্দর্য। রাস্তার দুপাশে মাঠের দিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায় ভোজ্য ফসল সূর্যমুখীর বাহারি শোভায়। কৃষি বিভাগ বলছে, সূর্যমুখী চাষে অনাবাদী জমির পরিমাণ কমার পাশাপাশি পূরণ হবে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা। লবণ সহিষ্ণু এ ভোজ্য ফসল আবাদে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। উপজেলার ৬ ইউনিয়নের সূর্যমুখী ফুলের চাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে ৪৮০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর উৎপাদন হবে বলে মনে করেন সুবর্ণচর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।সুবর্ণচরের চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের চর বজলুল করিম গ্রামের সূর্যমুখী চাষি মো. রাসেল মিয়া জানান, স্থানীয় গ্লোব এগ্রো’র পরামর্শে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পতিত জমিতে তিনি সূর্যমুখীর চাষ করছেন। লবণাক্ত জমিতে কম পরিশ্রম ও স্বল্প খরচে ভালো ফলন পাও যায়। ফলে সূর্যমুখী চাষের ব্যাপারে আগ্রহ বেড়েছে তাদের। তার মতো অনেকেই সূর্যমুখী চাষে আলোর মুখ দেখেছেন। সূর্যমুখী চাষে দ্বিগুণ থেকে কোন কোন বছর চারগুণ পর্যন্ত লাভ গুনেছেন।

সূর্যমুখী চাষিদের অভিযোগ, বীজ বপনের কিছুদিনের মধ্যে পানি সংকটসহ ফসলের বিভিন্ন পোকার আক্রমণ হয়। এ সময় কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ না পেয়ে নানাভাবে সার কীটনাশক ব্যাবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন তারা।

জানা যায়, চাষিদের সূর্যমুখী চাষে আকৃষ্ট করতে গ্লোব এগ্রো ফিসারিজ কয়েক বছর যাবত বিনামূল্যে জমি চাষ ও বীজ সরবরাহ করছে এবং চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফুলের বীজ সংগ্রহ, রোদে শুকানো এবং তেল তৈরির কলাকৌশল হাতেনাতে শিখিয়ে দিচ্ছে।

সূর্যমুখী চাষের ব্যাপারে গ্লোবের কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তারা জমি চাষ থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত কৃষকদের সঙ্গে থাকছেন এবং তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন। গ্লোবের এ কর্মসূচির আওতায় সুবর্ণচর উপজেলায় অর্ধশত সূর্যমুখী চাষি তাদের সঙ্গে রয়েছেন। বিভিন্ন সময় কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ জানান, লবণাক্ত পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমরা সবসময় চাষিদের নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছি। তবে জনবল কম থাকায় কোথাও কোথাও প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব হয়না। এছাড়া চাষিরা আমাদের পরামর্শ না নিয়ে বাজারের সস্তা কীটনাশক ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছেন।