Quantcast
  • রবিবার, ৪ মাঘ ১৪২৭, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

তরুণীদের মৃতদেহের সঙ্গেই ছিল মুন্নার যৌনাচার


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ২০:১৫, নভেম্বর ২৩, ২০২০
 
 
 
 


মুন্না ভগত। বয়স মাত্র ২০ বছর। তার বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের জুরান মোল্লার পাড়ায়। মামার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে কাজ করতো সে।মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্তবিভাগ-সিআইডি।মুন্নার দায়িত্ব ছিল রাতে মর্গে লাশ পাহারা দেওয়া। কিন্তু মধ্যরাতে তিনি মেতে উঠতেন এক বীভৎস কর্মকাণ্ডে।আত্মহত্যার মতো অপঘাতে নিহত তরুণীদের মৃতদেহের সঙ্গে তিনি বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতেন সবার অগোচরে দিনের পর দিন এই জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে মুন্নাসিআইডি জানায়, কয়েক বছর ধরে সে মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মৃতনারীদের ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সে।গ্রেফতার হওয়া মুন্নার মামা ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম জতন কুমার লাল জানান, মুন্না আরওদুই-তিন জনের সঙ্গে মর্গের পাশে একটি কক্ষেই রাতে থাকতো।যখন সে একা থাকতো তখন সে এমন কাজ করে থাকতে পারে। মুন্না মাঝে মধ্যে নেশা করতো বলেও জানান তিনি।গ্রেফতার মুন্না মর্গে রাখা নারীদের ধর্ষণের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে।গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদের আদালত তার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সিআইডির ইন্সপেক্টর জেহাদ হোসেন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।গত শুক্রবার আসামি মুন্নাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মুন্না স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়।এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান।আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।লাশ ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেফতার করেছে। এরপরই বেরিয়ে আসে এ জঘন্য ঘটনার খবর।সিআইডি জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে সংস্থাটি দেশের বিভিন্নস্থানে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় নিহতদের আলামতেরডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল তৈরি করে আসছে।ধারাবাহিকতায় গত বছরের মার্চ মাস থেকে একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে আসা কিছু আলামতের মধ্যে HVs (হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব) বা পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়।এরই ধারাবাহিকতায় সিআইডির কর্মকর্তারা আসল ঘটনা জানতে শুরু করেন তদন্ত।রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনার পরে পাওয়া আলামতের ডিএনএ গবেষণা করে সবগুলোতে একই ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া যায়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত দুই-তিন বছর ধরে এই কাজ করছে। রাতে তিনি মর্গেই
ঘুমাতেন।রাতে ওই হাসপাতালে আসা লাশ তিনি পাহারা দিতেন। রাতে কোনো তরুণীর লাশ আসলেই তিনি মেতেউঠতেন বিকৃত যৌনাচারে।আত্মহত্যাকারী ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েরাই ছিল মুন্নার বিকৃতির লক্ষ্য।মুন্না ওই হাসপাতালের স্টাফ না হয়েও মামার সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি।সিআইডি আরও জানিয়েছে, অধিকতর তদন্তে আত্মহত্যাকারীদের লাশের ময়না তদন্তের আগে ধর্ষণের আলামত পাওয়াযায়।প্রতিটি ধর্ষণই রাতের নিরিবিলি সময়ে হতো। তদন্তের এক পর্যায়ে মুন্নার ডিএনএর সঙ্গে সিআইডির প্রোফাইলেথাকা লাশের ডিএনএর নমুনা পাওয়া যায়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের মানসিক বিকারকে নেকরোফিলিয়া বলা হয়।

এই মানসিক রোগে যারা ভোগেন, তাঁদের মধ্যে মৃতদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বাসনা তৈরি হয়। সেই তাগিদ থেকেই এমন অপরাধ করতে পারেন তারা।

সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক মূল্যবোধের অভাব ও মাদকের ব্যবহারের কারণে অনেকের মধ্যে এমন বিকৃত
মানসিকতা তৈরি হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।