Quantcast
  • সোমবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৬ জুলাই ২০২০

অনিশ্চিত জেলেদের জীবণ :বন্ধ হচ্ছে দুই মাস সব ধরনের মৎস্য আহরণ


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ১২:১৩, জুন ৩০, ২০২০
 
 
 
 


 জুলাইয়ের শুরু  থেকে আগামি  ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাস সুন্দরবনে সব ধরণের মৎস্য আহরণ বন্ধ হচ্ছে। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও প্রজননের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। তবে বিকল্প কর্মসংস্থান না করে মাছ ধরা বন্ধ করার সিদ্ধান্তে জেলেদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বন বিভাগ ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের দুই লাখ ৩৪ হাজার ১’শ ৪৭ বর্গ কিলোমিটার বনভূমির মধ্যে দুই শতাধিক নদী ও খাল রয়েছে। এর মধ্যে অভয়ারণ্য এলাকাসহ ১৮টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রসস্ত খালে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এছাড়া মৎস্য প্রজননের জন্য জুলাই ও আগষ্ট দুই মাস সব খালে মৎস্য আহরণ বন্ধ করা হয়। নিষিদ্ধ এসব নদী-খাল ছাড়া সারা বছর প্রতি গোনে (প্রতি মাসের আমাবশ্যা ও পূর্ণিমার সময় মাছ ধরার মৌসুম) প্রায় দুই হাজার পারমিটধারী জেলে মৎস্য আহরণ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এ মৎস্য আহরণের উপর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। বর্তমানে করোনা দুযোর্গের কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে তার উপর মৎস্য আহরণ দুই মাস বন্ধ থাকলে জেলেদের জীবন-জীবিকা আরো কঠিন হয়ে পড়বে বলে জেলেরা জানান।

শরণখোলার মৎস্য ব্যসায়ী মাহাবুব হোসেন সেলু ও জালাল মোল্লা জানান, করোনার কারণে সুন্দরবনের জেলেদের মাছ ধরা ছাড়া এবার আর কোনো কাজ কারার সুযোগ নেই। এ বছর দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকলে জেলেরা ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকবে। তাই এ বছর জেলেদের সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তারা।

উপজেলার বকুলতলা গ্রামের নুর ইসলাম মুন্সি, সোনাতলা গ্রামের আসাদুল মাতুব্বর, খুড়িয়াখালী গ্রামের জেলে হাবিব হাওলাদার ও জামাল হাওলাদার জানান, আমরা ৩০/৪০ বছর ধরে বংশ পরস্পরায় সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এখন মাছ ধরা বন্ধ করে দিলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। সরকার আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে আমার আর সুন্দরবনে যাবো না।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, জুলাই ও আগস্ট মাস হচ্ছে মৎস্য প্রজননের জন্য উপযুক্ত মৌসুম। এ সময় সাধারণত সকল মাছে ডিম ছাড়ে। তাই প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাস সব ধরণের মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকবে। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সালে এ সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। এর ফলে সুন্দরবনে এ দুই মাস নিরাপদে মৎস্য প্রজনন ঘটে থাকে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে করোনাকালীন সময়ে জেলেদের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।