Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮, ০৬ মে ২০২১

টাঙ্গাইলে এলেংজানী নদে অবৈধ ড্রেজার দাপট : ঝুঁকিতে ফসলি জমি ও ঈদগাহ্ মাঠ


ইমরুল হাসান বাবু ,স্টাফ রিপোর্টার | আপডেট: ২২:০৬, মে ০১, ২০২১
 
 
 
 


টাঙ্গাইলে এলেংজানী নদে বেড়েছে অবৈধ ড্রেজার দাপট । এত যেমন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি সেই সাথে ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো বসতবাড়ী ও ঈদগাহ্ মাঠ সহ বিভিন্ন স্থাপনা । এ নদ যেন গিলে খাচ্ছে অবৈধ ড্রেজার। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না-করেই একটি প্রভাবশালী মহল নিষিদ্ধ ও অনুমোদনহীন ড্রেজার বসিয়ে কৃষিজমি ভরাটের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। জমি মালিকদের অনুমতি না-নিয়েই ভরাট করে ফেলা হচ্ছে তাদের জমি। পরে জমি মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি অর্থ। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। যত্রতত্র রাস্তা কেটে ড্রেজারের পাইপ বসানোর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।ড্রেজার ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করে স্বল্প সময়ে বিত্তবান হচ্ছেন, অপরদিকে নদীর তীরবর্তী এলাকার বসতবাড়ী, ঈদগাহ্ মাঠ, বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। এহেন বাংলা ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যায় বাড়িঘর ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান চললেও পরক্ষণেই আবার ভেসে উঠে একই চিত্র।দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ী, স্থাপনা ও ঈদগাহ্ মাঠ। ড্রেজার মালিকদের দৌরাত্বে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় হতাশাগ্রস্থ ভূক্তভোগীরা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকায় ২৬টি বাংলা ড্রেজার দিয়ে লৌহজং নদী থেকে অবৈধভা চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব । এসব ড্রেজার মালিকরা হলেন বেলুটিয়া শাহজামালের ৩টি, বিনোদ লুহুরিয়ায় ৪টি, যোকারচরে ৪টি, মগড়া ঈদগাহ্ মাঠ সংলগ্ন ৩টি, হাতিয়ায় ১টি, ধলাটেঙ্গরে ৮টি, বাঁশীতে ১টি, মহেলায় ২টি ।মগড়ার নদী তীরবর্তী সোমেস প্রমাণিক বলেন, বহু বছর ধরে এলাকায় বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ৩০ শতাংশ বসতবাড়ির মধ্যে ২৭ শতাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই ওই ড্রেজার মালিক সল্লা ইউনিয়নের আনালিয়াবাড়ী গ্রামের বালু খেকো শফিক মিয়া আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমরা গরীব মানুষ প্রশাসনের নিকট এর বিচার চাই।

ঐ এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী উজ্জ্বল মিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জামায়াতের একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ বাংলা ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে নদী থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলন করে আসছে।ফলে ঈদগাহ সহ গোরস্থান হুমকীর মুখে রয়েছে। এছাড়া, মহেলা এলাকায় তোফাজ্জল হোসেন, ধলাটেঙ্গরে মুক্তার হোসেন, মালেক সিকদার, মাঈন ও ফজলের ছেলে হারুন সহ অনেকেই ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এলাকার সুধী সমাজ প্রশাসনের দ্বারপ্রান্ত হলে এবং বাঁধা প্রধান করলে তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। দিগলাপাড়া এলাকার হুরমুজ এলাকার দাপট দেখিয়ে ভাবলা খালেরপাড়ায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। নাম প্রকাশে অনেকেই জানান,বালু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের একটি মহলকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে বালু উত্তোলন করছপ।ফলে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ পরিচালনার আগমুহূর্তে তাদের জানিয়ে দেয়।এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা তানজিন অন্তরা মুঠোফোনে বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের প্রশাসনের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। আমরা প্রায়ই কালিহাতীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদেরন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আর্থিক জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে আসছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।