Quantcast
  • শুক্রবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

শ্রীপুরে মসজিদের ইমামকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ২১:১৯, জানুয়ারি ১৮, ২০২১
 
 
 
 






গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা ইউনিয়নের উত্তর চকপাড়া বায়তুন নুর জামে মসজিদের ইমামকে জুতা দিয়ে পেটালেন মাওনা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।গত শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের ইমামের সাথে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ বিষয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মসজিদের সভাপতি মো. আবু সায়েম শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে থানা থেকে এর সুষ্ঠু সমাধানের কথা থাকলেও রফিকুল ইসলাম উপস্থিত না হওয়ায় কোন সমাধান হয়নি। পরে বিচার না পেয়ে মুসুল্লিরা ইমামকে জুতাপেটা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন।মিছিলটি মোড়ল মার্কট থেকে শুরু করে মেডিকেল মোড় হয়ে আবার মোড়ল মার্কটে গিয়ে শেষ হয় ।মিছিলে প্রায় ১৫শত লোক অংশ নেয় ।  মিছিল শেষে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন জৈনা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ, মাওনা মৃধা বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফাইজুদ্দিন, মাওলানা মুস্তাকিম বিল্লাহ, মাওলানা মামুনুর রশিদ, মাওলানা আলী, বাইতুন নূর জামে মসজিদের সভাপতি আবু সায়েম, সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন প্রমুখ।গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১১ টার সময় হুজুর তাঁর রুমেই ঘুমিয়ে ছিলেন। পাশের বাড়িতে গরু জবেহ করার জন্য ইমাম সাহেবকে ডাকছিলেন এক যুবক। হুজুর উঠছিলেন না, কোনো সাড়া শব্দও করছিলেন না। এমন সময় পাশের রুমেই শুয়ে থাকা ওয়ার্ড আ. লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম হুজুরকে চিৎকার করে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে হুজুরের ঘুম ভাঙলে তিনি বলেন, দেখুন সারাদিন অনেক পরিশ্রম করেছি তাছাড়া গতরাতেও অনুষ্ঠানের কারণে ঘুমাতে পারিনি। কেনো ডাকছেন বলুন। রফিক গালি দিতে দিতে বলে- আপনাকে টাকা দিয়ে রাখিনি? ডাকলে উঠেন না কেনো? তখন হুজুর বলেন, আমি শুনিনি। কিভাবে উঠবো? আর আপনি এভাবে গালিগালাজ করছেন কেনো?কথার একপর্যায়ে রফিক পায়ের জুতা খুলে ইমাম সাহেবকে পিটাতে শুরু করেন। পরে হুজুর নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। মসজিদের সভাপতি আবু সায়েম বলেন, আমরা এই অন্যায়ের কঠোর বিচার দাবি করছি। হুজুর অনেকদিন ধরেই আমাদের মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছেন। তিনি খুব ভালো মানুষ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার না হলে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিব আমরা।


অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম জানান, ইমাম সাহেবকে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শুধু একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে এবং পরে মিলমিশ হয়ে গেছে। আমার প্রতিপক্ষরা আমার নামে দুর্নাম ছড়াচ্ছে।মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়া জানান, অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম উপস্থিত না থাকায় কোন সমাধান দেওয়া যায়নি।