Quantcast
  • বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ অগাস্ট ২০২০

অনুমোদন ছাড়াই ঋণ নিতে পারবে বিদেশী কোম্পানি


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ১০:৩৯, জুলাই ২২, ২০২০
 
 
 
 


বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে না। অপর দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ছাড়াই বিদেশী কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা নিতে পারবে। বিদেশী কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের এ ছাড় দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রানীতিমালা শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এর মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানিগুলো অনৈতিকভাবে যেন বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা নিতে না পারে তার জন্য গৃহীত সব বন্ধ দরজা খুলে দেয়া হলো। 



এ দিকে ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ার জন্য কিস্তি অপরিশোধিত থাকার মেয়াদ বিদ্যমান ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে দেড় বছর করা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোতে খেলাপিঋণ চিহ্নিত হওয়া ছাড়াই অলস তহবিলের অঙ্ক বাড়বে। একই সাথে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে ব্যাংকের মুনাফার ওপর। 



বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদেশী মালিকানাধীন কোনো কোম্পানি স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হতো। এর কারণ হিসেবে, দেশে কার্যত বিদেশী কোম্পানিগুলো স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিয়ে মুনাফা করে আবার বৈদেশিক মুদ্রায় মুনাফা বিদেশে নিয়ে যায়। অথচ অনুমোদন না দিলে বিদেশী মুদ্রায় মূলধন এনে থাকে কোম্পানিগুলো। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বেড়ে যায়। অপর দিকে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিলে ওই কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেলে ওই কোম্পানির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার দায় সৃষ্টি হয়। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ উভয় দিক থেকে দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ কারণে কোনো বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানি স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নেয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার আগে তা যাচাই-বাছাই করত। কোনো কোম্পানির সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হলে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিøষ্ট কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হতো না। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার নীতিমালার এ বিষয়টি গতকাল শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছেমাফিক স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে শুধু তাদের প্রধান কোম্পানির লেনদেনকৃত ব্যাংকের গ্যারান্টি আনতে হবে। ওই গ্যারান্টিপত্র জামানত হিসেবে রেখে স্থানীয় যেকোনো ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ঋণ দিতে পারবে।

অপর দিকে, আগে বিদেশী কোম্পানিগুলো তাদের অর্জিত মুনাফা দেশে পাঠানোর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। মুনাফা দেশে নেয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাচাই-বাছাই করত। কেউ যেন ভুয়া মুনাফার ভিত্তিতে লভ্যাংশ নিজ দেশে নিতে না পারে সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি করত; কিন্তু একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নীতিমালা শিথিল করে দেয়। তখন বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই মুনাফা দেশে নিতে পারবে। তবে তার প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি ভুয়া মুনাফার ভিত্তিতে ডিভিডেন্ড দেশে নিয়ে গেলে তা যাচাই-বাছাই করা হতো। যাচাই বাছাইয়ে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে মুনাফা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে হতো। না হয়, পরের বছরের মুনাফার সাথে তা সমন্বয় করা হতো। গতকাল এ যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষমতাও হারাল বাংলাদেশ ব্যাংক। বলা হয়েছে, এখন কোনো বিদেশী কোম্পানি মুনাফা নেয়ার পর আর তা যাচাই-বাছাই করা হবে না। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পৃথক দু’টি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

প্রসঙ্গত, এর আগে গত মাসে বিদেশী কোম্পানিগুলোর মূলধন প্রস্থানে বড় ধরনের ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় বলা হয়, কোনো বিদেশী বিনিয়োগকারী তার নিট মূলধন দেশে ফিরিয়ে নিতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে না। এমনকি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি না হলেও তারাও মার্চেন্ট ব্যাংক বা কোনো চার্টার্ড একাউন্ট দ্বারা হিসাবায়ন করে নিট সম্পদ দেশে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। স্থায়ী সম্পদের মূল্য অতিমূল্যায়িত করে বেশি অর্থ যেন দেশে নিয়ে যেতে না পারে সে জন্য আগে এসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ নীতিমালায় এমনই ছাড় দিয়ে গত মাসে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন সুযোগ দেয়ায় কোনো বিদেশী কোম্পানি শেয়ারপ্রতি মূল্য অতিমূল্যায়িত করে বেশি অর্থ দেশে ফিরিয়ে নিলে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ হারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।