Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮, ০৬ মে ২০২১

করোনাকালে কাঁচামাল-পুঁজি সংকটে অস্তিত্ব হারাচ্ছে টাঙ্গাইলের শীতল পাটি


ইমরুল হাসান বাবু ,স্টাফ রিপোর্টার | আপডেট: ২১:৪০, এপ্রিল ২৬, ২০২১
 
 
 
 


সারাদেশে প্রচন্ড গরম ।আর এ গরমে শান্তির পরশ পেতে শীতল পাটির জুড়ি মেলা ভার। তীব্র গরমে তাই কদর বেড়েছে শীতল পাটির। এ কারণে শীতল পাটির বিক্রি যেমন বেড়ে গেছে, তেমনই পাটি তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততাও বেড়েছে কয়েক গুণে । কিন্তু চলমান করোনাকালে টাঙ্গাইলে এর বাস্তব চিত্র ঠিক উল্টো।টাঙ্গাইলের শীতল পাটি, কুটির শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বাহিরেও এখন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পণ্য । দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল ও পুঁজি সংকটে ভোগছেন এ পেশার মানুষগুলো । গেল দিন কোনোমতে চললেও করোনার ছোবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে এ পেশার মানুষ । এ শিল্পটিকে বাঁচানো এখন সময়ের দাবি ।শীতল পাটির রাজ্য টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার হিঙ্গানগরসহ এর আশপাশের কয়েকটি গ্রামে । হাজারের বেশি পরিবার যুক্ত এ শিল্পের সঙ্গে।কারিগররা জানান, কাঁচামাল সংকট ও মূলধনের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া ও প্লাস্টিক পণ্যের সঙ্গে পেরে না ওঠায় অনেকেই এ পেশা ছেড়েছেন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে সর্বাত্তক লকডাউনে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি আজ মহাসঙ্কটে পড়েছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় শীতল পাটির শ্রমিকরা আজ দিশেহারা ।টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার হিঙ্গানগরসহ এর আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বেতের মাধ্যমে চমৎকার সব ডিজাইনের শীতল পাটি তৈরী হয়। । বুনন কৌশলে ও কাজের দক্ষতায় যে কোন সাধারণ পাটিতেও ফুটিয়ে তোলা হয় জ্যামিতিক নকশা। এছাড়া জীবজন্তু, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, ফুল, লতাপাতা, মিনার, মসজিদ, নৌকা, পালকী প্রভৃতি ফুটে উঠে শীতল পাটির বুননের মাধ্যমে। নানাবিধ সমস্যার কারনে অন্যান্য এলাকাগুলোতে শীতল পাটি তৈরি করা কমে গেলেও দেলদুয়ার উপজেলার হিঙ্গানগরসহ কয়েকটি গ্রামে এখনও শীতল পাটি তৈরী করছেন কারিগররা। টাঙ্গাইলের গ্রামাঞ্চলে বেত গাছের ছাল দিয়ে পাটি তৈরি করা হয়। পাটির মধ্যে আছে নানা নাম। শীতল পাটি, ডালার পাটি, মোটা পাটি ইত্যাদি। তার মধ্যে আকর্ষনীয় ডিজাইন ও ব্যবহারে আরাম দায়ক হওয়ায় শীতল পাটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এক সময় টাঙ্গাইলের পাটি দেশের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হতো। কিন্তু বর্তমানে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পুঁজির অভাবে এই শিল্প থেকে সরে আসছেন কারিগররা। তবে বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে এখনো দূর্বিসহ জীবন যাপন করেও এই পেশাটি ধরে রেখেছেন অনেকে।

হিঙ্গানগরের ঝন্ট শেখ আমাদের সময়কে কে জানান আমরা বেত গাছের ছাল প্রথমে চিকন করে কাটি তারপর ভাতের মাড়ে সিদ্ধ করি একপর্যায়ে নরম ছালগুলো রোদে শুকিয়ে বিভিন্ন রঙ্গে রঙ্গিন করা হয়।এত কষ্ট করে আমরা ঠিকমত বাজার ধরতে পারি না । লকডাউনে পাইকার না আসায় আমাদের শীতল পাটি বিক্রি করতে পারছি না ।ছেলে মেয়েদের নিয়ে কষ্টে জীবন পার করছি ।সোনা ভানু জানান ছাল কাটা থেকে শুরু করে রং করা পর্যন্ত সব কাজ পুরুষরা করলেও বেশির ভাগ পাটি বননের কাজটি সারেন গৃহিনীরা। বাড়ীর কাজের পাশাপাশি করতে হয় । ছেলে মেয়েদের ঠিকমত মানুষ করতে চাইলে আমাদের কষ্ট মেনে নিতে হবে ।পিন্ট চন্দ্র দে জানান সারা বছর কমবেশী পাটি বিক্রী হলেও গরমের শুরুতে বিক্রী হয় ভালো। করোনা কারনে গতবছর লোকসানে পরতে হয়েছিল এবাররো একই চিত্র। একারনে চিন্তিত। আবার শুনতেছি লকডাউন বাড়াবে তাহলে বেত গাছের ছালগুলো রোদে শুকিয়ে বিভিন্ন রঙ্গে রঙ্গিন করা আর হবে না তেমনি আমাদের চুলায় আর আগুন ও জলবে না । এবিষয় দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান দেলদুয়ারের আতিয়া, হিঙ্গানগর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা ।শীতল পাটির জেলা হিসেবে খ্যাতি সম্ভাবনাময় পাটি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জন্য সরকারী কর্মকতাদের সাথে আলাপ করেছি । আমি ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের সবসময় সহযোহিতা করে থাকি ।দেলদুয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ জানান উপজেলা পরিষদের পক্ষে করোনার প্রথম ঢেউয়ে তাদেরকে সহায়তা করা হয়েছে। আমি সবসময় তাদের খবর রাখতেছি তাদের কোন অসুবিধা হবে না ।