Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৮, ২৪ জুন ২০২১

শিম চাষে লাগবেনা মাচা: বশেমুরকৃবি কর্তৃক খাট শিমের জাত উদ্ভাবন


হাবিবুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০১:০৬, মে ১২, ২০২১
 
 
 
 


শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন সবজি। দেশি শিম বাংলাদেশের ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় এমনকি শহরের বাড়ির ছাদকৃষিতে শিম ফসলটির আবাদ হয়ে থাকে। বর্তমানে সারা বছরই শিম বাজারে পাওয়া যায়। তবে স্বাদ ও গন্ধে শীতকালীন শিমের তুলনা ভার। এটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং সব শ্রেণীর লোকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শিম সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। শিমের বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ছাড়াও খনিজ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। আমাদের দেহের পুষ্টিসাধনে এসব উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে শিম খাদ্য হিসেবে খুবই উপকারী। প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের জোগান ছাড়াও শিম অন্যতম লাভজনক ও অর্থকরী সবজি। এর চাষ করে জমি থেকে অনেক ফসলের তুলনায় হেক্টর প্রতি অধিক আয় করা যায়। শিমের প্রায় অর্ধশতাধিক জাত বাজারে আছে। তবে স্বাদ, গুনগতমান ও জনপ্রিয়তার নিরিখে বিচার করলে সীমিত সংখ্যক জাতই কৃষকের মাঠে এবং বাজারে দেখতে পাওয়া যায়। শিমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও পুষ্টিমানের বিবেচনায় বর্তমানে দেশে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শিম চাষ বিস্তৃতি লাভ করেছে। তবে উদ্ভাবিত জাতসমুহের মধ্যে প্রায় সকল জাতের গাছই লম্বা।সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত¡ ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ নামে শিমের দুইটি খাট জাত উদ্ভাবন করেছেন। খাট জাতের শিম সাধারনত: জংলি প্রকৃতির হওয়ায় এবং শিমে গন্ধ থাকায় এগুলো খাবার অনুপযোগী হয়। প্রফেসর আমিনুল ইসলাম খাট জাতের মধ্যে দেশী শিমের গুণাগুন আনার জন্য ৮ বছর গবেষণা করে সফল হয়েছের। তিনি একটি খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতগুলো উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান।এছাড়াও প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম ইতিপূর্বে দেশি শিমের বিভিন্ন গুনগত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ছয়টি জাত উদ্ভাবন করেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত জাতগুলি আকার-আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য, ফলন, শিমের রং, গড়ন, স্বাদ ও পুষ্টিগত গুনাগুন বিবেচনায় অনন্য। শিমের গতানুগতিক জাত সমূহ থেকে তাঁর উদ্ভাবিত জাতগুলোকে সহজেই আলাদা করা যায়। এদের মধ্যে বিইউ শিম ৪ এর শিমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড বেশী থাকায় এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারবে। বিইউ শিম ৫ গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফল ধরায় এটি ছাদ কৃষিতে টবে চাষ করার জন্য বিশেষ উপযোগী। জাতগুলোর অঙ্গজ বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার দরূন জমির এরিয়া প্রতি ফলন অনেক বেশী হওয়ায় বানিজ্যিক চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

সম্প্রতি প্রফেসর আমিনুল ইসলাম কর্তৃক উদ্ভাবিত বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ জাত দুইটি এ মাসে জাতীয় কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করেছে। জাত দুটি কোন প্রকার সাপোর্ট খুঁটি এবং মাচা বিহীনভাবে মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে যা দেশে শিম চাষে এক যুগান্তকারী গতিশীলতা আনয়ন করবে বলে আশা করা যায়। এছাড়াও জাত দুটি ছাদ বাগানে টবে চাষ করার উপযোগী। নি¤েœ জাতগুলির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলির সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো।বিইউ খাট শিম ৮ঃ একটি বিদেশী খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল (চযড়ঃড়-ংবহংরঃরাব) ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগষ্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৩৫-৪৫ সেমি, শুটির রং সবুজ, শিরা গুলো বেগুনী রংয়ের, নলডগ টাইপের, মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ১৮.০ থেকে ২০.০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ১৪.০ - ১৬.০ সেমি, প্রস্থ ১.৫ - ২.০ সেমি, শিমে ৬-৮ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ - ৮০ টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০-১৩০ দিন। গাছ প্রতি ফলন ১২০০-১৫০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী।

বিইউ খাট শিম ৯ঃ একটি বিদেশী খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল (চযড়ঃড়-ংবহংরঃরাব) ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগষ্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ সেমি, শুটির রং সবুজ, শিরা গুলো বেগুনী রংয়ের, শুটি মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ৯.০ - ১০.০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ৮.০ - ৯.০ সেমি, প্রস্থ ১.৫ - ২.০ সেমি, শিমে ৫-৬ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ - ১০০ টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০-১৩০ দিন। গাছ প্রতি ফলন ৭০০-৯০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, বিশ^বিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত শিমের এই জাতগুলো খাট হওয়ায় মাচা বা খুঁটি ছাড়াই মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে বিধায় উৎপাদন খরচ কম হবে। কৃষকরা জাতগুলো চাষ করে অধিক লাভবান হবেন। শিমের জাতগুলো খাট হওয়ায় টবেও চাষ উপযোগী ফলে নগর বা ছাদ কৃষিতেও অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

শিম চাষে লাগবেনা মাচা: বশেমুরকৃবি কর্তৃক খাট শিমের জাত উদ্ভাবন

শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন সবজি। দেশি শিম বাংলাদেশের ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় এমনকি শহরের বাড়ির ছাদকৃষিতে শিম ফসলটির আবাদ হয়ে থাকে। বর্তমানে সারা বছরই শিম বাজারে পাওয়া যায়। তবে স্বাদ ও গন্ধে শীতকালীন শিমের তুলনা ভার। এটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং সব শ্রেণীর লোকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শিম সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। শিমের বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ছাড়াও খনিজ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। আমাদের দেহের পুষ্টিসাধনে এসব উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে শিম খাদ্য হিসেবে খুবই উপকারী। প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের জোগান ছাড়াও শিম অন্যতম লাভজনক ও অর্থকরী সবজি। এর চাষ করে জমি থেকে অনেক ফসলের তুলনায় হেক্টর প্রতি অধিক আয় করা যায়। শিমের প্রায় অর্ধশতাধিক জাত বাজারে আছে। তবে স্বাদ, গুনগতমান ও জনপ্রিয়তার নিরিখে বিচার করলে সীমিত সংখ্যক জাতই কৃষকের মাঠে এবং বাজারে দেখতে পাওয়া যায়। শিমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও পুষ্টিমানের বিবেচনায় বর্তমানে দেশে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শিম চাষ বিস্তৃতি লাভ করেছে। তবে উদ্ভাবিত জাতসমুহের মধ্যে প্রায় সকল জাতের গাছই লম্বা।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত¡ ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ নামে শিমের দুইটি খাট জাত উদ্ভাবন করেছেন। খাট জাতের শিম সাধারনত: জংলি প্রকৃতির হওয়ায় এবং শিমে গন্ধ থাকায় এগুলো খাবার অনুপযোগী হয়। প্রফেসর আমিনুল ইসলাম খাট জাতের মধ্যে দেশী শিমের গুণাগুন আনার জন্য ৮ বছর গবেষণা করে সফল হয়েছের। তিনি একটি খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতগুলো উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান।

এছাড়াও প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম ইতিপূর্বে দেশি শিমের বিভিন্ন গুনগত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ছয়টি জাত উদ্ভাবন করেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত জাতগুলি আকার-আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য, ফলন, শিমের রং, গড়ন, স্বাদ ও পুষ্টিগত গুনাগুন বিবেচনায় অনন্য। শিমের গতানুগতিক জাত সমূহ থেকে তাঁর উদ্ভাবিত জাতগুলোকে সহজেই আলাদা করা যায়। এদের মধ্যে বিইউ শিম ৪ এর শিমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড বেশী থাকায় এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারবে। বিইউ শিম ৫ গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফল ধরায় এটি ছাদ কৃষিতে টবে চাষ করার জন্য বিশেষ উপযোগী। জাতগুলোর অঙ্গজ বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার দরূন জমির এরিয়া প্রতি ফলন অনেক বেশী হওয়ায় বানিজ্যিক চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

সম্প্রতি প্রফেসর আমিনুল ইসলাম কর্তৃক উদ্ভাবিত বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ জাত দুইটি এ মাসে জাতীয় কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করেছে। জাত দুটি কোন প্রকার সাপোর্ট খুঁটি এবং মাচা বিহীনভাবে মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে যা দেশে শিম চাষে এক যুগান্তকারী গতিশীলতা আনয়ন করবে বলে আশা করা যায়। এছাড়াও জাত দুটি ছাদ বাগানে টবে চাষ করার উপযোগী। নি¤েœ জাতগুলির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলির সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো।

বিইউ খাট শিম ৮ঃ একটি বিদেশী খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল (চযড়ঃড়-ংবহংরঃরাব) ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগষ্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৩৫-৪৫ সেমি, শুটির রং সবুজ, শিরা গুলো বেগুনী রংয়ের, নলডগ টাইপের, মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ১৮.০ থেকে ২০.০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ১৪.০ - ১৬.০ সেমি, প্রস্থ ১.৫ - ২.০ সেমি, শিমে ৬-৮ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ - ৮০ টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০-১৩০ দিন। গাছ প্রতি ফলন ১২০০-১৫০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী।

বিইউ খাট শিম ৯ঃ একটি বিদেশী খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল (চযড়ঃড়-ংবহংরঃরাব) ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগষ্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ সেমি, শুটির রং সবুজ, শিরা গুলো বেগুনী রংয়ের, শুটি মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ৯.০ - ১০.০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ৮.০ - ৯.০ সেমি, প্রস্থ ১.৫ - ২.০ সেমি, শিমে ৫-৬ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ - ১০০ টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০-১৩০ দিন। গাছ প্রতি ফলন ৭০০-৯০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, বিশ^বিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত শিমের এই জাতগুলো খাট হওয়ায় মাচা বা খুঁটি ছাড়াই মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে বিধায় উৎপাদন খরচ কম হবে। কৃষকরা জাতগুলো চাষ করে অধিক লাভবান হবেন। শিমের জাতগুলো খাট হওয়ায় টবেও চাষ উপযোগী ফলে নগর বা ছাদ কৃষিতেও অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

শিম চাষে লাগবেনা মাচা: বশেমুরকৃবি কর্তৃক খাট শিমের জাত উদ্ভাবন

শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন সবজি। দেশি শিম বাংলাদেশের ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় এমনকি শহরের বাড়ির ছাদকৃষিতে শিম ফসলটির আবাদ হয়ে থাকে। বর্তমানে সারা বছরই শিম বাজারে পাওয়া যায়। তবে স্বাদ ও গন্ধে শীতকালীন শিমের তুলনা ভার। এটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং সব শ্রেণীর লোকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শিম সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। শিমের বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ছাড়াও খনিজ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। আমাদের দেহের পুষ্টিসাধনে এসব উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে শিম খাদ্য হিসেবে খুবই উপকারী। প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের জোগান ছাড়াও শিম অন্যতম লাভজনক ও অর্থকরী সবজি। এর চাষ করে জমি থেকে অনেক ফসলের তুলনায় হেক্টর প্রতি অধিক আয় করা যায়। শিমের প্রায় অর্ধশতাধিক জাত বাজারে আছে। তবে স্বাদ, গুনগতমান ও জনপ্রিয়তার নিরিখে বিচার করলে সীমিত সংখ্যক জাতই কৃষকের মাঠে এবং বাজারে দেখতে পাওয়া যায়। শিমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও পুষ্টিমানের বিবেচনায় বর্তমানে দেশে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শিম চাষ বিস্তৃতি লাভ করেছে। তবে উদ্ভাবিত জাতসমুহের মধ্যে প্রায় সকল জাতের গাছই লম্বা।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত¡ ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ নামে শিমের দুইটি খাট জাত উদ্ভাবন করেছেন। খাট জাতের শিম সাধারনত: জংলি প্রকৃতির হওয়ায় এবং শিমে গন্ধ থাকায় এগুলো খাবার অনুপযোগী হয়। প্রফেসর আমিনুল ইসলাম খাট জাতের মধ্যে দেশী শিমের গুণাগুন আনার জন্য ৮ বছর গবেষণা করে সফল হয়েছের। তিনি একটি খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতগুলো উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান।

এছাড়াও প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম ইতিপূর্বে দেশি শিমের বিভিন্ন গুনগত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ছয়টি জাত উদ্ভাবন করেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত জাতগুলি আকার-আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য, ফলন, শিমের রং, গড়ন, স্বাদ ও পুষ্টিগত গুনাগুন বিবেচনায় অনন্য। শিমের গতানুগতিক জাত সমূহ থেকে তাঁর উদ্ভাবিত জাতগুলোকে সহজেই আলাদা করা যায়। এদের মধ্যে বিইউ শিম ৪ এর শিমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড বেশী থাকায় এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারবে। বিইউ শিম ৫ গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফল ধরায় এটি ছাদ কৃষিতে টবে চাষ করার জন্য বিশেষ উপযোগী। জাতগুলোর অঙ্গজ বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার দরূন জমির এরিয়া প্রতি ফলন অনেক বেশী হওয়ায় বানিজ্যিক চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

সম্প্রতি প্রফেসর আমিনুল ইসলাম কর্তৃক উদ্ভাবিত বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ জাত দুইটি এ মাসে জাতীয় কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করেছে। জাত দুটি কোন প্রকার সাপোর্ট খুঁটি এবং মাচা বিহীনভাবে মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে যা দেশে শিম চাষে এক যুগান্তকারী গতিশীলতা আনয়ন করবে বলে আশা করা যায়। এছাড়াও জাত দুটি ছাদ বাগানে টবে চাষ করার উপযোগী। নি¤েœ জাতগুলির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলির সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো।বিইউ খাট শিম ৮ঃ একটি বিদেশী খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল (চযড়ঃড়-ংবহংরঃরাব) ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগষ্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৩৫-৪৫ সেমি, শুটির রং সবুজ, শিরা গুলো বেগুনী রংয়ের, নলডগ টাইপের, মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ১৮.০ থেকে ২০.০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ১৪.০ - ১৬.০ সেমি, প্রস্থ ১.৫ - ২.০ সেমি, শিমে ৬-৮ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ - ৮০ টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০-১৩০ দিন। গাছ প্রতি ফলন ১২০০-১৫০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী।বিইউ খাট শিম ৯ঃ একটি বিদেশী খাট জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল (চযড়ঃড়-ংবহংরঃরাব) ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগষ্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ সেমি, শুটির রং সবুজ, শিরা গুলো বেগুনী রংয়ের, শুটি মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ৯.০ - ১০.০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ৮.০ - ৯.০ সেমি, প্রস্থ ১.৫ - ২.০ সেমি, শিমে ৫-৬ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ - ১০০ টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০-১৩০ দিন। গাছ প্রতি ফলন ৭০০-৯০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, বিশ^বিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত শিমের এই জাতগুলো খাট হওয়ায় মাচা বা খুঁটি ছাড়াই মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে বিধায় উৎপাদন খরচ কম হবে। কৃষকরা জাতগুলো চাষ করে অধিক লাভবান হবেন। শিমের জাতগুলো খাট হওয়ায় টবেও চাষ উপযোগী ফলে নগর বা ছাদ কৃষিতেও অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।