Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭, ০৪ ‍্মার্চ ২০২১

বসন্ত ছুঁয়েছে ভালোবাসা


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ১৪:০৬, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২১
 
 
 
 


বাসন্তী ভাবনায় মনের বনে ফুল ফুটতে শুরু করেছে কদিন আগে থেকেই। আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। শিমুল পলাশের রঙিন আবহে সুন্দরের প্রাচুর্য নিয়ে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে। দখিন হাওয়ার গুঞ্জরণ এই মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আরো কয়েক গুণ। বাসন্তী রঙের নানান ফুল প্রকৃতি রাঙিয়ে মাতাল হাওয়ায় দোল খেয়ে যায় সবার মনে মনে।

নতুন সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে পহেলা ফাল্গুন ১৩ নয়, ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। এমন ভুলে গতকাল বৃহস্পতিবার অনেকেই বসন্ত বরণের জন্য পথে নেমেছিলেন। এ নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।এভাবেই ফাগুন হাওয়ার দোল লেগেছে বাংলার নিসর্গ প্রকৃতিতে। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতির সবুজ অঙ্গন। মাঘের শেষ দিক থেকেই গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। শীতের খোলসে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে। মৃদুমন্দ বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধ জানিয়ে দিচ্ছে বসন্ত এসেছে। এবং সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা।

‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল/ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল/চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায়/বেণুবনে মর্মরে দক্ষিণবায়/স্পন্দিত নদীজল ঝিলিমিলি করে/জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি বালুকার চরে/নৌকা ডাঙায় বাঁধা, কান্ডারি জাগে/পূর্ণিমারাত্রির মত্ততা লাগে।/খেয়াঘাটে ওঠে গান অশ্বত্থতলে/পান্থ বাজায়ে বাঁশি আনমনে চলে।/ধায় সে বংশীরব বহুদূর গাঁয়/জনহীন প্রান্তর পার হয়ে যায়।/দূরে কোন শয্যায় একা কোন? ছেলে/বংশীর ধ্বনি শুনে।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘ফাল্গুন’ কবিতা এটি।

১৪২৬ বঙ্গাব্দের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিন পহেলা ফাল্গুনের মানসপটে বার বার হানা দিচ্ছে কবিগুরুর এ ‘ফাল্গুন’। ঋতুরাজ বসন্ত আবাহনের ক্ষণযাত্রা। ফুলেল মধুময় ও যৌবনের উদ্যমতা বয়ে আনার বসন্ত, উচ্ছ্বাস ও উদ্বেলতায় মন-প্রাণ কেড়ে নেওয়ার বসন্ত।

স্বাগত বসন্ত। প্রাণ খুলে তাই যেন কবির ভাষায় বলা যায়, ‘আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে/এত বাঁশি বাজে/এত পাখি গায়...।’ রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গানের আকুতি যেন ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে- ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান/আমার আপনহারা প্রাণ/আমার বাঁধন ছেঁড়া প্রাণ/তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান/তোমার অশোকে কিংশুকে/অলক্ষ্যে রঙ লাগল আমার অকারণের সুখে...।’

কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরাপাতার শুকনো নূপুরের নিক্বণ, প্রকৃতির মিলন এ বসন্তেই। বসন্ত মানেই যে পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা।

শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিময় বাতাস জানান দেয় নতুন লগ্নের। ফাল্গুনের আগমনে পলাশ, শিমুল গাছে লেগেছে আগুনে খেলা। মধুর বসন্তের সাজ সাজ রব সর্বত্র। পুরো প্রকৃতিতে চলছে ‘মনেতে ফাগুন এলো...’ আবহ।

এমন ফাল্গুনেই, বায়ান্নর আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনে তারুণ্যের ‘শব্দ বিপ্লব’, ‘সাহসী উচ্ছ্বাস’ ও বাঁধভাঙা আবেগে বাংলা একাকার হয়েছিল।