Quantcast
  • রবিবার, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ২৫ অক্টোবর ২০২০

এখন শুধুই স্মৃতিময় পাটের সেই সোনালী ইতিহাস


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ২১:০৬, জুলাই ৩০, ২০২০
 
 
 
 


হারিয়ে যাচ্ছে সোনালী আঁশ পাট ।দিন দিন পাট চাষের পরিমাণও কমে যাচ্ছে । সোনালী আঁশের দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। এক সময় বিশ্বের অন্যান্য দেশে সোনালী আঁশ পাট রপ্তানি করতো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত ছিলো পাট কিন্তু এখন তা এক স্বর্নালী অতীত। পাটের সেই সোনালী ইতিহাস এখন শুধুই স্মৃতি। সারা দেশে উল্লেখযোগ্য হারে প্রতি বছর কমছে পাটের চাষ। গাজীপুরের শ্রীপুরেও কমছে পাটের আবাদ। পাটের আবাদ এখনোও বর্তমান কিছুটা আছে। তবে উৎপাদনে খরচ ও পরিশ্রম বেশি এবং জাগ (ভিজানো/পঁচানো) দেয়ার জায়গা না থাকায় প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। পাট চাষে আগ্রহ কমে কৃষকরা এখন সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তবে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে। কৃষকরা পাটের দাম পেলে আগামীতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সচেতনরা। বর্তমানে পাট উৎপাদনে খরচ ও পরিশ্রম বেশি এবং পাট জাগ (পাট পচাঁনো) দেয়ার জায়গা না থাকায় পাট চাষে আগ্রহ কমেছে চাষীদের। ফলে প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। আগাম বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় ফলন যেমন কম হয়েছে, পাটের মানও হতাশাজনক। খরচের তুলনায় দামে তেমন পোশায়না। এতে লোকসানের দুশ্চিন্তা ভর করে চাষীদের মনে। তাই পাটের আবাদ ছেড়ে সবজির দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। শ্রীপুরের মাওনা গ্রামের এক কৃষক বলেন, প্রতি বিঘাতে পাটের আবাদ করতে হাল চাষ ৬শ টাকা, বীজ ২শ টাকা, সার, ওষধ, নীড়ানি, সেচ ৪ হাজার টাকা, শ্রমিকের খাবার ২ হাজার টাকা, কাটা ও ধোয়া ৮ হাজার টাকা সহ প্রায় ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি পাট উৎপাদন হয়ে থাকে ১০-১৪ মণ। শ্রীপুরের গাজীপুর গ্রামের কৃষক সাইদ বলেন, পাটের আবাদে সবচেয়ে বড় সমস্যা জাগ দেয়ার জায়গা না থাকা এবং পানি। পাট কাটার পর ভিজানোর জন্য যে সময় পানির দরকার তা পাওয়া যায়না। গত বছর এক বিঘা জমিতে আবাদ করেছিলাম। এ সমস্যার কারণে এ বছর আবাদ করিনি। পাটের মতো ঝামেলা পোহাতে হয়না। মাওনা গ্রামের কৃষক আ: খালেক বলেন, গতবছর দুই বিঘাতে পাটের আবাদ করেছিলাম। এবছর ১ বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি। পাট লাগানো থেকে শুরু করে ঘরে উঠানো পর্যন্ত প্রচুর কষ্ট করতে হয়। কিন্তু সে তুলনায় আমরা মূল্য পাই না। এক দিকে পাটের দাম না পাওয়া, অপরদিকে পাট জাগ দেয়ার জায়গা এবং পানি না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। তাই পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমছে। অনেকে জ্বালানির কাজে পাট কাঠী ব্যবহার করতে স্বল্প পরিমাণ পাটের আবাদ করছে। মাওনা গ্রামের আলমগীর হোসেন সরকার বলেন, পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়। কিন্তু সেই সোনালী আঁশের আবাদ কমে যাচ্ছে। পাট পচনশীল ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া পাটের পাতাকে শাক হিসেবেও খাওয়া হয়। পলেথিনের ব্যবহারে দিন দিন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। অপরদিকে পাটের জিনিসপত্র পরিবেশ বান্ধব। পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার এবং প্রচারনা বাড়াতে হবে। এছাড়া কৃষকরা যদি পাটের ন্যায্য দাম পাই তাহলে আগামীতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।