Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৮, ২৪ জুন ২০২১

জীর্ণ দশায় টাঙ্গাইলের দশ টাকার আতিয়া মসজিদ


ইমরুল হাসান বাবু ,স্টাফ রিপোর্টার | আপডেট: ১০:১৫, মে ০৭, ২০২১
 
 
 
 


দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায়  জীর্ণ দশায় টাঙ্গাইলের দশ টাকার আতিয়া মসজিদ । মুসলিম বিশ্বের অনন্য স্থাপনা টাঙ্গাইলের দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটি সংস্কার অভাবে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ।সৌন্দর্য  রক্ষায় মসজিদটি সংস্কার এখন সময়ের  দাবি ।প্রাচীন স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া জামে মসজিদ। টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে ৭/৮ কিলোমিটার দূরে দেলদুয়ার উপজেলা। এ উপজেলার দক্ষিণে আরো ৫ /৭ কিলোমিটার রিকশা বা ভ্যানের পথ পেরিয়ে আতিয়া গ্রাম। গ্রামে রয়েছে লৌহজং নদী। আর ছোট্ট এই নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত বাংলাদেশের মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন একটি নিদর্শন। নাম তার আতিয়া জামে মসজিদ। যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘আটিয়া মসজিদ’ নামে পরিচিত।লুৎফর রহমান সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালীন ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে মুদ্রিত দশ টাকার নোটে স্থান পায় এই বিখ্যাত মসজিদের ছবি। তাই স্থানীয়রা একে দশ টাকার নোটের ‘আটিয়া’ (আতিয়া) মসজিদও বলে থাকেন । নানা কারণে ঐতিহাসিক ও বাঙালি মুসলমান সমাজের প্রচীন পুরাকীর্তি সংযুক্ত সৃষ্টিকর্মের ধারক-বাহক এই মসজিদটি যত না বিখ্যাত, বর্তমানে এর অবস্থা ঠিক ততটাই জীর্ণ!অযত্নে অবহেলায় জরাজীর্ণ ঐতিহাসিক আটিয়া জামে মসজিদ নতুন রুপে কবে সাজবে কে জানে?সূত্রে জানাযায়, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় চারশ বছরের পুরনো দেশের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন আটিয়া জামে মসজিদটির সংস্কার হচ্ছে না । মসজিদটির তত্ত্বাবধানে থাকা জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সংস্কারের জন্য আবেদন করা হলেও অদৃশ্য কারণে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

যার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।এদিকে অনুমতি না থাকায় এলাকাবাসীও ইচ্ছে করলেও মসজিদটি সংস্কার করতে পারছে না। প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে ঐতিহ্যবাহী আটিয়া জামে মসজিদটি স্থান পেয়েছে উইকিপিডিয়াতেও। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে মসজিদটির নানা ঐতিহাসিক তথ্য। এছাড়া এক সময় সরকার দেশবাসীর কাছে পরিচিত করাতে দশ টাকার নোটে আটিয়া মসজিদটির ছবি মুদ্রণ করেছিল। সেটি অবশ্য এখন আর নেই।টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা সদর থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। ১৬০৯ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন করটিয়ার জমিদার সৈয়দ খান পন্নী।এরপর ১৮৩৭ সালে মসজিদটি সংস্কার করেণ দেলদুয়ার জমিদার বাড়ির সদস্য রওশন খাতুন চৌধুরাণী। পরে দেলদুয়ারের জমিদার আবু আহম্মদ গজনবী ও করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নীসহ কয়েকজন মিলে ১৯০৯ সালে পুনরায় মসজিদটি সংস্কার করেন।চুন-শুড়কি দিয়ে নির্মিত মসজিদটি পূর্ব-উত্তর পাশে রয়েছে সুনিপুণ দুর্লভ কারুকার্য। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪২ ফুট প্রস্থ ৩২ ফুট এবং উচ্চতা ৪৪ ফুট। একটি বড় আকৃতির গম্বুজসহ মোট চারটি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের দেওয়াল ৮ থেকে সারে ৮ ফুট প্রশস্থ।মসজিদের বর্তমান ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, ২০০১ সালের পর থেকে মসজিদটিতে কোনো চুনকাম করা হয়নি। বিভিন্ন অংশে শেওলা পড়ে কালো হয়ে গেছে। দেয়ালের ইট-বালি খসে পড়ছে, মসজিদটির প্রধান গম্বুজের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় বৃষ্টি হলে মসজিদে পানি পড়ছে। যার ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।ইমাম আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে মসজিদটির সংস্কার প্রয়োজন। মসজিদটি দেখার জন্য এখনো অসংখ্য দর্শনার্থী ভীড় করেন এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা। মসজিদটির সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কার প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক মারুফ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মসজিদ রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি, মসজিদটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কতৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।স্থানীয় আতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান প্রকৌশলী সিরাজ মল্লিক বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই মসজিদের সংস্কারের প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার করা হবে। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি আতিয়া মসজিদের ছবিসহ ১০ টাকার নোটটি পুরনায় চালু করা হোক।