Quantcast
  • মঙ্গলবার, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ২৬ অক্টোবর ২০২০

বকের সৌন্দর্য নজর কাঁড়ে


ইকবাল হোসাইন বিপুল | আপডেট: ১৮:৫৪, জুলাই ২৩, ২০২০
 
 
 
 


সত্যিই কি চমৎকার একটি পাখি বক ।ছোট বেলায় বকের ছানা ধরতে গাছের মগ ডালে উঠার গল্প সবার জীবনেই  রয়েছে । বাঁশের ঝার বা উচু কোনো গাছে বাসা বানায় ,যাতে কোনো মানুষ সহজেই বাসা বিনষ্ট করতে না পারে । বকের কথা বলতেই মনে পড়ে ছোট বেলার সেই কবিতার কথা । ঐ দেখা যায় তাল গাছ,ঐ আমাদের গাঁ,ঐ খানেতে বাস করে কাঁনা বগীর ছা । দিন যাচ্ছে গাছ পালা কমে যাচ্ছে ,সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বক পাখি । এখন আর আগের মত অহরহ চোখে পড়ে না বক পাখির আনাগোনা ।



মনে পড়ে যায়, পুলক বন্দোপাধ্যায় এর লেখা মান্নাদের কন্ঠের সেই চির চেনা গান, ও কেন এত সুন্দরী হলো/অমনি করে ফিরে তাকালো/দেখে তো আমি মুগ্ধ হবোই/আমি তো মানুষ/ও কেন এত সুন্দরী হলো। বকের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়ে ছবি তুলতে গেলে বকগুলো গানটির মতই ফিরে তাকিয়েছিল। সাদা পালক ঝাপটে বকগুলো একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছিল। মনে হলো পৃথিবীটা যেন একটু খানি বদলে গেছে। পথে চলার সময় হঠাৎ এমন বিনা কাজে বকগুলো যখন সামনে এল তখন দেখে তো আমি মুগ্ধ হবোই।খাবারের সন্ধানে বিল নদী জলাশয়ে আসে/ঝাঁকে ঝাঁকে কানি সাদা বক/কীট পতঙ্গ পুটি মাছে/লোভাতুর চোখ করে চক চক। উঁচিয়ে দীর্ঘ গলা মত্ত যখন/শিকারের নেশায় ফেলে পা/জানে না পরবে কখন কার পাতা ফাঁদে/অজানা শংকা; ভয়ে ছম ছমে গা। খাবার খেতে গিয়ে/নিজে হয় অন্যের খাবার/তাতে যায় আসে/ কিই বা কার! উড়ে যায় সাঝ বেলা ডানা ঝাঁপটে আকাশ নীলিমায়/রেখে যায় চিহ্ন ঝরে পরে পালক/নদী বিল জলাশয়ে/অবাক বিস্ময়ে সৌন্দর্য খোঁজে বুড়ো, যুবক, যুবতী, বালক ।পুকুর, দিঘী, ছোট নদী, খাল, বিল, হ্রদ, জলাভূমি, ম্যানগ্রোভ ও কৃষিভূমি, বিশেষত ধানক্ষেত  বকের প্রসলে দেশ আর পরিবেশের উপর ডিম সংখ্যা নির্ভর করে। বাবা-মা উভয়ে ডিমে তা দেয়। ২৪-২৬ দিন পর ডিম ফুটে ছানা বের হয়। ছয় থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে ছানারা উড়তে সক্ষম হয়। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এরা বয়োঃপ্রাপ্ত হয় ।গ্রামের দু-একটি বিচ্ছিন্ন জোড়া বাদে বাকিরা দলে বা বকের কলোনিতে বাসা বানায়। গাছের ডাল, তৃণ ও খড়কুটো দিয়ে বাসা বানায়। বাসা কাকের বাসার মত বড়-সড় ও আগোছালো হয়। বাসা পানি থেকে ২ থেকে ৫০ মিটার উপর গাছে বা বাঁশবনে হয়। গাজীপুরের শ্রীপুর নিজ মাওনা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার তোলা ।