Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭, ০৪ ‍্মার্চ ২০২১

রাতারগুলের আরেক রূপ


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ১২:১৩, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২১
 
 
 
 


বর্ষা মৌসুমে জলমগ্ন থাকা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুলের এখন আরেক রূপ। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এখানকার হিজল-করচ–বরুণগাছ অপেক্ষায় নতুন পাতার। শুকনা মৌসুমে গাছের পাতাগুলো ঝরে গিয়ে আরেক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে রাতারগুল। বনের ভেতরের খালগুলোয় নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকেরা। তবে বনের ভেতর পানি কম থাকায় পর্যটকদের কোলাহল সীমিত। এই সুযোগে রাতারগুলের প্রাণ-প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরেছে আপন মনে। পাতাঝরা গাছের ডালে নিজের মতো করে বাসা বেঁধেছে শামুকখোল পাখিরা। ছবিগুলো তুলেছেন আনিস মাহমুদ। 

রাতারগুল জলাবন[ বা বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা (রাতারগুল) বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।[২] এছাড়াও ২০৪.২৫ হেক্টর বনভুমিকে ৩১ মে ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করে।[৩] এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি। এই বনকে বাংলাদেশ সরকারের বনবিভাগের অধীনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

চিরসবুজ এই বন গোয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত (গোয়াইন নদী সারি গোয়াইন নদীর সাথে মিলিত হয়েছে[৪]) এবং চেঙ্গির খালের সাথে একে সংযুক্ত করেছে। এখানে সবচেয়ে বেশি জন্মায় করচ গাছ (বৈজ্ঞানিক নাম: Millettia pinnata)। বর্ষাকালে এই বন ২০–৩০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি সারা বছর, পানির উচ্চতা ১০ ফুটের মতো থাকে।[৫][৬][৭] বর্ষাকালে এই বনে অথৈ জল থাকে চার মাস। তারপর ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়ে-চলা পথ। আর তখন পানির আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বিলগুলোতে। সেখানেই আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণীকুল।[২]