Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৮, ২৪ জুন ২০২১

এ ইদ ছিলো ভাতৃত্বের


হাবিবুর রহমান | আপডেট: ১৬:৪৫, মে ১৪, ২০২১
 
 
 
 


এ ইদেও ছিলো কোলাকুলি । নানান পোজের ছবি ফেসবুককে লাল নীলে রাঙিয়েছে। আনন্দের আর ভাতৃত্বের শুক্রবারের এ ইদ হয়ে উঠে আবেগের ।করোনাকালে ইদ আয়োজনে অনুশাসন না মেনে জামাতে ছিলো গাদাগাদি দাড়ানো। মাস্কের বালাই ছিলোনা (আমাদের গ্রামে)। ইদের আবহ ছিলো। শহুরেদের আগমনে শিকড়ের মানুষ তাদের দেখা পেলো । শহরের রাস্তা ফাঁকা করে ছুটিতে আসাদের সাথে রীতিমতো দেখা গেলো অভাবিত মিলন মেলা ।গরীব ধনীর দামী আর সস্তার পোষাকেও আনন্দটা ছিলো রঙধনুর মতো। আভাময়। রঙমাখা।প্রসঙ্গত, সিয়াম সাধনা শেষে কাঙ্ক্ষিত ইদ মুসলিম পরিবারে এনে দেয় নির্মল দিন। আর সেই দিনটি হলো ইদুল ফিতর।গ্রামের মুন্সী বাড়ি, শিকদার বাড়ি, মাস্টার মশাইয়ের বাড়ি আর মাধবর বাড়ির মানুষ দুরত্ব ভেঙে সকালে দাড়িয়েছিলো এক কাতারে। এ ইদ ই তাদের এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিলো।মাদের এ গ্রামটির নাম পুর্ব ডগরী । গাজীপুরে সদর উপজেলার এ গ্রামে থাকে হাজারজনা। ধর্মীয় অনুভূতিতে ওই কাতারে আমি কাধে কাঁধ মিলিয়ে জামাতে দাড়িয়েছিলাম। ইদ নামাজ আদায়ে ডানে বামে দেখি চিরচেনাদের মুখ। চাচাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার সেলিম , মামাতো ভাই জাকির সাইদুর আর খালাতো ভাই কাসেম আলতাফরা তো পুরনো ঐতিহ্যে করলো কোলাকুলি । পরে ইদ শুভেচ্ছা বিনিময়। প্রফেসর কামরুল হাসান আমাকে এক পলক দেখেই খুশী ।

ইদের আবহে ইদ। অনুশাসন মাড়িয়ে চলা ইদ উত্সব । কুশলাদি বিনিময় শেষে মাঠে বিকেলের আড্ডা জমে জম্পেশ। ক্ষণে ক্ষণে মোবাইলে সেলফি। আর তা ফেসবুকে পোষ্ট ।গ্রামে ইদের এটাই মজা। তাইতো গ্রামে ফেরা। গ্রামে ফিরতে ফিরতে কাঠালতলীর মৃত্যু দেখলাম । অতিরিক্ত ভাড়া আদায় দেখলাম । তবুও গ্রামে ফেরা। কারন এ ইদ অনুভূতির । আনন্দের । ভাতৃত্বের । আবেগের।ইদে ঘুড়ি নিয়ে ছেলে সোহান আর তার সঙ্গী তুষারের বাধহীন ছুটে চলাতেও ছিলো আমার কড়া শাসনের লঙ্ঘন । এর নাম ইদ। গ্রামের ইদ।গাজীপুর সদর উপজেলার এ গ্রামের মতোই তো ছিলো সব গ্রামের ইদ। দিনশেষে এ ইদে পরস্পর আত্মীয়দের সম্পর্কের হিমেল হাওয়া পুরো গ্রামকে করে ছন্দময় । এ বাড়ি ও বাড়ি ছুটে চলা আর বেড়ানার দৃশ্য দেখেই নিঃসন্দেহে

বলতে পারি এ ইদ ছিলো আনন্দের আর ভাতৃত্বের ।

হাবিবুর রহমান : সদস্য, গাজীপুর প্রেসক্লাব ।

গাজীপুর প্রতিনিধি, ডেইলি বাংলাদেশ পোষ্ট ।