Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮, ০৬ মে ২০২১

নাজাতের বার্তা নিয়ে তৃতীয় দশকে পদার্পণ করেছে রমজান-


মো : কাউছার মিয়া | আপডেট: ১২:৪১, মে ০৩, ২০২১
 
 
 
 


নাজাতের বার্তা নিয়ে এলো মাহে রমজান। প্রিয় নবী (সা.) বলেন; রমজানরে প্রথম অংশ রহমত বা দয়া, করুণার; দ্বিতীয় অংশ মাগফিরাত বা ক্ষমার; তৃতীয় বা শেষাংশ নাজাত বা মুক্তির ( বায়হাকি শরিফ) ।রহমত মাগফিতার ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজানের প্রতিটা মুহূর্ত ফজিলতপূর্ণ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শেষ দশকের মর্যাদা ও গুরুত্ব অন্য দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।এ দিনগুলোতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণার বারিধারা ক্ষমার প্রতিশ্রুতি এবং মু্ক্তির ঘোষণা মুমিনদের জন্য এক মহান নেয়ামত। এজন্যই মহানবী সা. সাহাবায়ে কেরাম ও বুযুর্গানেদ্বীন এই দশকে ইবাদতের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতেন।

শেষ দশকের বিশেষ আমল সমূহ:-

১। ইতিকাফ করা : হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মাহে রমজানের শেষ দশ দিন ইবাদাতে এত বেশি সাধনা করতেন যা অন্য কোন সময়ে করতেন না (তিরমিজি-৭৪৪)।ইতিকাফ অর্থ অবস্থান করা, আটকে রাখা, নিজেকে বন্দি করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। মহিলাগণ বাড়িতে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করবেন।বছরের যে কোনো সময় ইতিকাফ করা যায়। তবে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের ফজিলত ভিন্ন। এটা মহানবী (সা.) এর প্রিয় সুন্নাত। আয়িশা (রা.) বলেন, রমজানের শেষ দশকে নবী করীম (সা.) ইতিকাফ করতেন। (বুখারী-২৬০)

২। লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান : লাইলাতুন অর্থ রাত। কদর অর্থ সম্মান, মর্যাদা, সুমহান। আরেক অর্থ তাকদির বা ভাগ্য নির্ধারণ। লাইলাতুল কদর অর্থ সম্মানিত রজনী বা ভাগ্য নির্ধারণের রজনী। এই রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং এই রাতে পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারিত করা হয় বলে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়।পবিত্র কুরআনে মহিমানিত এ রজনীর মর্যাদা ও মহাত্ব বর্ণনা করে ¯ একটি সূরাহ অবতীর্ণ হয়েছে।

মহানবী (সা.) এ রাত অনুসন্ধান করতেন এবং উম্মতগণকেও অনুসন্ধান করতে বলেছেন । ইরশাদ হয়েছে, তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতে শবেকদর তালাশ করো। ( সহিহ বুখারি)

৩। সাদাকাতুল ফিতর আদায়; সাদাকা অর্থ দান আর ফিতর অর্থ ভঙ্গ করা, বিদির্ণ করা ইত্যাদি। অর্থাৎ দানের মাধ্যমে ভঙ্গ করা । দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন দান ও ঈদ উদ্যাপনের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করা হয়, তাই এই দান সাদাকাতুল ফিতর এবং এই দিনকে ঈদুল ফিতর বলা হয়। ধনী ,স্বাধীন সকল মুসলমান নর নারীর ওপর সাদাকায়ে ফিতর ওয়াজিব।

আয়েশা (রা.) বলেন, রমজানে রাসূল (সা.) এর দান সদকা করার ব্যাপারে উৎসাহ অধিক বেড়ে যেত। এই রমজান যেন আমাদের সকলের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের উসিলা হয় মহান প্রভূর দরবারে এই প্রার্থনাই করি আমিন।

লেখক: মো:কাউছার মিয়া

সহকারী শিক্ষক ( ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা)

টেপিরবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ।