Quantcast
  • সোমবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৩ অগাস্ট ২০২০

অপরাধ বিজ্ঞানের চোখে বাংলাদেশে হোয়াইট কলার অপরাধ


আব্দুল্লাহ আল মামুন | আপডেট: ১৯:৪৬, জুলাই ১৩, ২০২০
 
 
 
 


২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া কেন্দ্রিয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ব্যাপারে আমরা সবাই জানি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রক্ষিত ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। যার মাত্র ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার শ্রীলঙ্কা এবং ফিলিপাইন থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনার পরে ৪ বছর পার হয়ে গেলেও, ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে, সেই সাথে অপরাধীদের কোন হদিসও জানা যায়নি।

এফবিআই এর তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, ‘রিজার্ভ চুরির সাথে কোনও একটি রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা জড়িত’। এ ঘটনাটি একটি ভিন্ন ধরনের অপরাধের বর্ণনা।

আমরা মূলত অপরাধ বলতে বুঝি যেখানে অপরাধী উপস্থিত থাকবে, অপরাধের জন্য কোন একটি মোটিভ থাকবে এবং অপরাধের পর বিভিন্ন আলামত ঘটনাস্থলে পাওয়া যাবে। কিন্তু ব্যতিক্রমী এ অপরাধের ক্ষেত্রে অনেক কিছুরই ব্যত্যয় ঘটে। এ বিশেষ ধরনের অপরাধকে ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’ বলে সর্বপ্রথম সংজ্ঞায়িত করেন ১৯৩৯ সালে অপরাধ বিজ্ঞানী এডুইন সাদারল্যান্ড। ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’কে বাংলাতে বলা যেতে পারে ভদ্রলোকেদের অপরাধ।

অর্থাৎ এ ধরনের অপরাধে সমাজের প্রতিষ্ঠিত, সম্মানিত, মার্জিত, শিক্ষিত, ক্ষমতাবান, উঁচু পদমর্যাদার ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন। তারা নিজের অবস্থান, ক্ষমতা ও পদমর্যাদার বলে অপরাধ করে থাকেন। এটি একটি অপেক্ষাকৃত নতুন ও বিশেষ ধরনের অপরাধ হওয়ায়, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, সংবিধান ও আইনের কোনও শাখাতেই নির্দিষ্ট করে এর বর্ণনা ও শাস্তির উল্লেখ নেই, যার কারণে দেশের প্রতিটি সেক্টরে এ ধরনের অপরাধ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাই আজ আমি বাংলাদেশের হোয়াইট কলার ক্রাইমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবো।

হোয়াইট কলার ক্রাইমের জন্য কোন অস্ত্র প্রয়োজন হয় না, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকারও দরকার নেই। এ ধরনের অপরাধের জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত চতুর, উচ্চ পদমর্যাদাসম্পন্ন ঠাণ্ডা মাথার একজন ব্যক্তি। হোয়াইট কলার ক্রাইমের জন্য মোটিভ হিসেবে কাজ করে শুধুই অর্থনৈতিক লাভ। এজন্য ব্যক্তি তার ক্ষমতা এবং চতুরতা ব্যবহারে পরিকল্পিতভাবে অপরাধটি করে। অন্য সকল অপরাধের মত এখানেও ভিক্টিম থাকে, যারা মূলত একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র হতে পারে। তবে অন্য সকল অপরাধ থেকে হোয়াইট কলার ক্রাইমকে তদন্ত করা বেশি কঠিন। হোয়াইট কলার ক্রাইমের প্রমাণাদি সহজেই গায়েব করে দেওয়া যায়, অর্থাৎ অপরাধীর কোন চিহ্নই থাকে না। এজন্যই আমাদের দেশে বর্তমানে এ ধরণের অপরাধ প্রতিটি অফিস, আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যেসব অপরাধ হোয়াইট কলার ক্রাইমের আওতায় পরবে তা হলো: ঘুষ, চাদাবাজি, দুর্নীতি, সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, নিরাপত্তা ও পণ্য জালিয়াতি, দলিল জালিয়াতি, ব্যাংক জালিয়াতি, ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি, বীমা জালিয়াতি এবং স্বাস্থ্যসেবার জালিয়াতি ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পণ্যে ভেজাল মেশানো, পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি এবং ট্রেডমার্ক জালিয়াতির মাধ্যমে হোয়াইট কলার ক্রাইম করে থাকে। এসব অপরাধের জন্য সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র।

হোয়াইট কলার ক্রাইমের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হতে পারলেও দেশের অর্থনীতির উপর এটির সরাসরি প্রভাব পড়ে। হোয়াইট কলার ক্রাইমের ফলে যে অর্থ আয় করে অপরাধী তার উপযুক্ত কোন উৎস না থাকায় এগুলোকে কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসকল অর্থ থেকে সরকার কোন রাজস্ব পায় না এমনকি বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়।

একজন অপরাধ বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমি চাইবো, বিভিন্ন অপরাধ বেশি ঘটে এমন জায়গাগুলোকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করতে। দেশের ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকারীখাতে সব থেকে বেশি হোয়াইট কলার ক্রাইম হয়ে থাকে।

দুদকের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১৬টি দুর্নীতির মামলায় ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় যার মাঝে ২৮ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। দেশের সরকারি অফিসগুলোতে দুর্নীতি-ঘুষ এত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে যে জনগণ এসবকে এখন আর অপরাধ হিসেবেই ভাবে না।

যেকোনও সরকারি অফিসে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রেখে টাকা চাওয়া, দ্রুত কাজ করার নাম করে টাকা নেওয়া, অন্যের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ঘুষ নেওয়া এমনকি হাসপাতালে সুচিকিৎসা পাওয়ার জন্যও ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসবের জন্য দেশের প্রতিটি সেক্টর আজ লোকসান ও হুমকির মুখে।

দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা টিআইবির ২০১৭ সালের জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনগণ এখন আর সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর আস্থা রাখতে পারছে না। দেশের ৮৯ শতাংশ লোকের মতে, ঘুষ না দিলে সরকারের কোন খাতেই সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। দেশের সব থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থা। এখানে সেবা নিতে এসে ৭২.৫ শতাংশ খানা (পরিবার) কোনও না কোনওভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এর মাঝে ৬০.৭ শতাংশ মানুষ ঘুষ প্রদান করেছেন যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা যা গড়ে ৬৯৭২ টাকা প্রতি খানায়। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির কথা বলে শেষ করা যাবে না। এ খাতের উন্নয়ণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার ৮০ ভাগই দুর্নীতির গ্রাসে চলে যায়। এছাড়াও স্বাস্থ্যখাতে সেবা নিতে এসে ৪২.৫ ভাগ খানাকে (পরিবার) ঘুষ দিতে হয়। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির জন্য কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যেমন – কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা, যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং ওষুধ সরবরাহ।

টিআইবির দাবি, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে শুধু চিকিৎসাসেবা সামগ্রী কেনাকাটার নাম করে। এর মাঝে ফরিদপুর মেডিকেলে যন্ত্রপাতি স্বাভাবিক মূল্যের থেকেও ১৮৬ গুণ দেখানো হয়েছে, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেলের জন্য ১৭৫ কোটি টাকার এবং শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেলের জন্য ২৫০ কোটি টাকার নিম্ন মানের যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এমন প্রায় ২৭ টি মেডিকেলে বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দেশের শিক্ষাখাতেও চলছে উদ্দাম অর্থ আত্মসাতের অসুস্থ প্রতিযোগীতা।

যাত্রাবাড়ীর শনির আখরায় অবস্থিত দনিয়া কলেজের দুর্নীতি তদন্তে ডিআইএ এর প্রতিবেদনে উঠে আসে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা অর্থ জালিয়াতি ও আত্মসাৎ এর তথ্য। শুধু মাত্র গত তিন অর্থ বছরেই আত্মসাৎ করা হয় মোট ১৬ কোটি টাকা। এসব কাজের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। তদন্তে বলা হয় অবৈধভাবে ২২ জন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে ২ কোটি, শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধার নাম দিয়ে ৩ কোটি, ভবন নির্মাণে অতিরিক্ত ৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয় যার কোন হিসেব রেজিস্টারে উল্লেখ নেই। এছাড়া শিক্ষকদের শিফট ও বাড়িভাড়ার নামে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে যা বিগত ৬ বছর যাবত চলে আসছে। এছাড়াও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য ৫ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে কিন্তু কাজ শেষ করার জন্য মাত্র ১২ দিন সময় দেওয়া হয়। এ সময়ের মাঝে উন্নয়ন কাজ শেষ করতে না পারলেও ভুয়া-জাল ভাউচার ও নথিপত্র দিয়ে পুরো টাকা উত্তোলন করা হয় এবং এর বেশির ভাগ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। একাজে জড়িত আছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রকৌশলী কার্যালয় ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরেও একইভাবে ৯৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ থাকলেও ভূয়া-জাল ভাউচার ও নথির মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ থেমে নেই। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতেও থেমে নেই দুর্নীতি, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে টেন্ডারের অনিয়মের কাহিনী আমরা সবাই ইতিমধ্যে জেনেছি।

অন্যদিকে বেসরকারিখাতগুলোও যে দুর্নীতি থেকে দূরে নেই তা জানা কথা। আমরা হলমার্ক অর্থ কেলেঙ্কারির কথা সবাই জানি। হলমার্ক গ্রুপ ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থ জালিয়াতি করে। এছাড়াও জনতা ব্যাংকের ১১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা এনন টেক্স গ্রুপ, থারমাক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপ জালিয়াতি করে। সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও বেসিক ব্যাংক, ফরমার্স ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও, যার বেশিরভাগ অর্থ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টে উপার্জিত। তেমনিভাবে করোনাকালে রিজেন্ট হাসপাতাল টেস্ট করার জন্য ১০ হাজার নমুনা সংগ্রহ করেছে, যার প্রতিটি টেস্টের জন্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫০০ টাকা। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও প্রকার টেস্ট না করেই ভুয়া করোনা সনদ সরবরাহ করেছে। এভাবে তিন মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও ক্ষমতার বলে অনেকেই অপরাধের সাথে জড়িত হচ্ছে। কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির জন্য আটক হয় যুবলীগের সমবায় সম্পাদক জি কে শামীম। তার বিরুদ্ধে মাদক, অর্থ পাচার ও আয় বহির্ভূত ২৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকার জন্য মামলা দেওয়া হয় এবং এবং তার বাড়ি অফিসে অভিযান করে নগদ ২ কোটি টাকা ও ১৬৫ কোটি টাকার আমানতপত্র জব্দ করা হয়েছে। নরসিংদী যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া, যাকে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চোরা চালান, জাল নোটের ব্যবসা, জমি বেদখল ইত্যাদি মামলায় আটক করা হয়।

দুর্নীতির কারণে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় বহির্ভূত অর্থাৎ কালো টাকায় পরিণত হচ্ছে। এসকল কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে আসছে সরকার বিভিন্ন সময়ে। ২০০৭-২০০৮ সালে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার ব্যক্তি ১০ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা করেছে। এ যাবতকালে ১৪-১৮ হাজার কোটি টাকা সাদা করা হয়েছে এবং সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১৪৫৪ কোটি টাকা। ২০১২-২০১৩ সালে কালো টাকা সাদা করার স্থায়ী নিয়ম করা হয়। এছাড়াও দুর্নীতির একটি বড় অংশের টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়। বার্লিন ভিত্তিক সংস্থা টিআইবির মতে, প্রতি বছর ১৫০০ কোটি ডলার পাচার হচ্ছে। এগুলো মূলত সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে পাচার করা হয়। গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি বলেছে, ২০১৫ সালে কাগজপত্রে বেশি দাম উল্লেখ করে টাকা পাচার হয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৫০,০০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবি, বিশ্বের ১৮০ টি দেশের উপর চলমান দূর্নীতির মাপকাঠি নির্ণয়ক বাৎসরিক প্রতিবেদন-২০১৮ তে উল্লেখ করে, বাংলাদেশ সিপিআই (করাপশন পারসেপশন ইন্ডেক্স) সূচকে দুর্নীতিতে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬ ধাপ অবনতি। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার মাঝে ২য় অবস্থানে।

দেশের এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। এত সব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য দুদক একমাত্র সংস্থা । কিন্তু একা তাদের পক্ষে এত বড় কাজ সম্পাদন সম্ভব নয়। এজন্য দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব দূর্নীতি বিরোধী স্বাধীন বিভাগ থাকবে, যেটি ওই প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের উপর নজরদারি করবে। সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাজের জন্য জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে। আইনে হোয়াইট কলার ক্রাইমের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলো যাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। কোন ব্যক্তি দুর্নীতির সাথে জড়িত হলে, দ্রুত তদন্ত করে তার সকল অর্থ-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক। এছাড়াও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকল অফিস, আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। কালো টাকা যাতে দেশের বাইরে পাচার হতে না পারে সেজন্য এসব টাকা দেশীয় কল-কারখানা প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে বেকারত্ব সমস্যারও কিছুটা সমাধান হয়।