Quantcast
  • শনিবার, ৪ বৈশাখ ১৪২৮, ১৭ এপ্রিল ২০২১

করোনায় ভাড়া বিড়ম্বনা


সাতকাহন ডেস্ক | আপডেট: ১৮:২৮, এপ্রিল ০৭, ২০২১
 
 
 
 


ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকের (অটোরিক্সা) নিদ্দিষ্ট কোন পার্কিং স্থান না থাকায় যত্রতত্র পাকিংয়ে প্রতিনিয়তই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে রাজবাড়ী পৌর শহরে । ফলে শহরের রেলগেট এলাকায় যানজট লেগেই থাকে এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী। রাজবাড়ী পৌর এলাকার প্রধান দুইটি রুটে (রেলগেট টু মুরগি র্ফাম এবং রেলগেট টু শ্রীপুর)’র যাত্রী ভাড়ার নির্ধারিত তালিকা না থাকায় ভাড়া বিরম্বনায় পড়ছেন যাত্রী ও চালকরা। এ নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হলেও নাই প্রশাসনের নজরদারি। এছাড়া প্রতিটি অটো থেকে নেওয়া হয় ৩৫ টাকা পৌর পার্কিং কর। যা অটো চালকদের জন্য বেশি। তাই পৌর এলাকায় অটোরিক্সা পার্কিংয়ের স্থান ও যাত্রী ভাড়া নির্ধারনের দাবী চালক ও যাত্রীদের। ১৯১৩ সালে স্থাপিত রাজবাড়ী পৌরসভার নানাবিধ উন্নয়ন হলেও আজ পর্যন্ত মাইক্রোবাস ব্যাতিত পৌর এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনের জন্য হয়নি কোন পার্কিং স্থান। অথচো দৈনন্দিন জীবনের চাহিদার সঙ্গে দিন দিন বাড়ছে পৌর এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা। আর প্রতিদিন পৌর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ইজারাদারের প্রতিনিধিরা পৌর পার্কিং কর হিসাবে প্রতিটি ইজিবাইক থেকে আদায় করছে ৩৫ টাকা। এদিকে জেলা শহরের প্রধান দুইটি রুট রেলগেট টু মুরগি ফার্ম (এক থেকে দেড় কিলোমিটার) ও রেলগেট টু শ্রীপুর (দুই থেকে আড়াই কিলোমটার) দুরত্বের। এরুট গুলোতে নিদ্দিষ্ট কোন যাত্রী ভাড়ার তালিকা ও টাকা ভাঙ্গতি না থাকার অজুহাতে যাত্রীদের থেকে ৭ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হয়। যা দুরত্ব অনুযায়ী যাত্রীদের জন্য বেশি। ফলে ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকরা প্রতিনিয়তই ঝামেলায় জড়ান। তাছাড়া সন্ধ্যার পর সুযোগ পেলেই যাত্রীদের ভাড়া আরও বৃদ্ধি পায়।পৌরবাসী নেহাল আহমেদ সহ অনেকে বলেন, ছোট শহর হিসাবে রাজবাড়ীতে অটোরিক্সার সংখ্যা বেশি। পৌরসভার মধ্যে অটো রাখার নিদ্দিষ্ট কোন স্থান না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। এছাড়া পৌর এলাকার মধ্যে নাই নির্ধারিত ভাড়া। ফলে তাদের মধ্যে সমস্যা হয়। তাই পৌর এলাকায় অটো পার্কিংয়ের স্থান ও নির্ধারিত ভাড়া করার দাবী জানান তারা।

যাত্রীরা বলেন, পৌরসভার মধ্যে ভাড়া নির্ধারন নাই। যার কাছ থেকে যেমন পারছে, চালকরা তেমনি নিচ্ছে। ভাড়া নিয়ে প্রায়ই চালকদের তাদের সঙ্গে ঝামালে বাঁধে। ফলে ভাড়ার নিদ্দিষ্ট তালিকার দাবি জানান তারা। অটোরিক্সা চালক বলেন, সারা দিনে তারা ৫ থেকে ৭শ টাকা আয় করেন। তার থেকে ৩৫ টাকা পৌর কর দিতে হয়। কিন্তু কর দিলেও নাই তাদের পার্কিংয়ের স্থান। ফলে রাস্তার দুই পাশে সিরিয়াল করে দাঁড়িয়ে থাকে। পুলিশ এসে পিটিয়ে তাদের সড়িয়ে দেয়। এছাড়া যাত্রী ভাড়ার নির্ধারিত তালিকা না থাকায় যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। তাই পৌরসভার প্রধান দুটি রুটে ভাড়া ১০ টাকা ও পৌর পার্কিং কর কমানোর দাবি জানান চালকরা।

রাজবাড়ী নব-নির্বাচিত পৌর মেয়র আলমগীর শেখ তিতু বলেন, অটো পার্কিংয়ের ফি বাড়তে বাড়তে এখন ৩৫ টাকা নিচ্ছে ইজারাদার। যা চালকদের কাছে বেশি, ফলে চালকরা যাত্রীদের থেকে ভাড়া বেশি নিচ্ছে। যে কারণে উভয় পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত। এবারের ইজারায় প্রতি অটো থেকে ২০ টাকার বেশি নিতে পারবে না বলে নোটিশে উল্লেখ আছে। ভাড়া জনগণের চাহিদার বেশি হলে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত করে দেবেন। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ফ্রী রাখতে অটোরিক্সাার জন্য নিদ্দিষ্ট পার্কিং করারও চেষ্টা করবেন।