Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৮, ২৪ জুন ২০২১

পুকুরে ডুবে দুই সহোদর শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বাবা আটক,পলাতক রেনু


ইমরুল হাসান বাবু ,স্টাফ রিপোর্টার | আপডেট: ০৭:০১, মে ২৩, ২০২১
 
 
 
 


টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাঘিল বাজার সংলগ্ন শ্রীফলিয়াটা গ্রামের একটি পুকুর থেকে শনিবার (২২ মে) দুপুরে সহোদর ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।নিহতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার আদম মন্ডলের মেয়ে আবিদা(১৪) ও ছেলে রিফাত(১১।ঘটনাটি পরকীয়ার জেরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতদের বাবা আদম মন্ডলকে আটক করেছে।স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম জানান, শ্রীফলিয়াটা গ্রামের রেনু বেগম টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আকুর টাকুর পাড়ায় আদম মন্ডলের বাসায় ভাড়া থেকে শহরে আয়ার কাজ করতেন। রেনু বেগমের ছেলের বিয়ের দাওয়াত খেতে শুক্রবার( ২১ মে) আবিদা ও রিফাত শ্রীফলিয়াটা গ্রামে যায়।শনিবার দুপুরে তাদের বাড়ির পাশের পুকুরে রেনু বেগমের সঙ্গে ওই দুই ভাই-বোন গোসল করতে যায়। তাদের পুকুর ঘাটে রেখে রেনু বেগম বাড়িতে কাপড় আনতে যান।ফিরে এসে দেখতে পান আবিদা ও রিফাত পানিতে ভেসে রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় আশিকুর রহমান দোলন জানান, শিশু দুটির মায়ের নাম ফাতেমা। ফাতেমা তার ফুফু শাশুরি। আদম মন্ডল পরকীয়ার কারণে স্ত্রীর উপর মাঝে মাঝেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত।তার ফুফু শাশুরি ফাতেমাকে স্বামী আদম মন্ডল কয়েকদিন আগে মারধর করে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে শিশু দুটিকে তার কাছে রেখে দেয়।পরকীয়ার কারণে শিশু দুটিকে কৌশলে হত্যা করে পথের কাঁটা সরানো হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান মো. লাভলু মিয়া লাভু জানান, নিহত শিশু দুটি বাবার সাথে শ্রীফলিয়াটা গ্রামে এক আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে যায়। শনিবার দুপুরে আত্মীয় বাড়ির পাশের একটি পুকুরে শিশু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়।খবর পেেয় স্থানীয় লোকজন পানি থেকে শিশু দুটির মরদহে উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।শিশুদের বাবা আদম মন্ডল জানান, শুক্রবার তার ছেলে-মেয়ে ওই বাড়িতে বেড়াতে যায়। শনিবার দুপুরের দিকে তাকে মোবাইল ফোনে জানানো হয় তার ছেলে-মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তিনি বাঘিল বাজারের এক ফার্মেসীতে গিয়ে তার ছেলে-মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।পরিকল্পিতভাবে তার ছেলে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনার পর রেনু বেগম আত্মগোপন করেছে বলে জানা যায়।টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, স্থানীয় লোকের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে মনে হচ্ছে- শিশু দুটি পানিতে ডুবে মারা গেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশুদের বাবা আদম মন্ডলকে থানায় আনা হয়েছে।