Quantcast
  • বৃহস্পতিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৮, ২৪ জুন ২০২১

বাসাইলে চোর আতঙ্কে এলাকাবাসী


ইমরুল হাসান বাবু ,স্টাফ রিপোর্টার | আপডেট: ২৩:৩৪, জুন ০৯, ২০২১
 
 
 
 


টাঙ্গাইলের বাসাইলের ফুলকি ইউনিয়নে ইদানিং ব্যাপক হাড়ে বেড়েছে চোরের উপদ্রব। প্রায় প্রতি রাতেই কোন না কোন বাড়িতে ঘটছে চুরির ঘটনা।এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে গ্রামবাসী।গত তিন দিনে উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের তিরঞ্চ গ্রামে ১০টি বাড়িতে ঘটেছে চুরির ঘটনা। গভীর রাতে চোরেরা এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে লুটে নিচ্ছে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, নগদ টাকাসহ নানা জিনিসপত্র।গভীর রাতে কাঁচা ঘরে সিঁধ কেটে আর পাকা ঘরের দরজার পাশের টিনের বেড়া কেটে সুকৌশলে ঘরে প্রবেশ করে চোরেরা। এ ছাড়াও অনেক সময় রাতের খাবারের সময় জনশূন্য ঘরে আগে থেকেই প্রবেশ করে ধানের মাচা কিংবা আসবাবপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। বাড়ির লোকজন ঘুমিয়ে পড়লে চুরি করে চস্পট মারে চোরেরা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, গত ৬ জুন থেকে ৮ জুন পর্যন্ত গ্রামে ৩ রাতে ব্যবধানে ৬ জুন দিবাগত রাতে ঘরের টিন কেটে তিরঞ্চ পশ্চিম পাড়ার হায়দার আলীর ছেলের বউয়ের স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল। পাশের গ্রাম সুরাবাড়ির গনি মিয়ার বাড়ি থেকে দুইটি মোবাইল ও অলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। পরের দিন ৮ জুন এক রাতেই ৭ বাড়িতে চুরি করে চোর চক্রটি এর মধ্যে তিরঞ্চ পূর্ব পাড়ার মজিবরের বাড়ি থেকে মোবাইল ও ৫ হাজার নগদ টাকা। প্রবাসী শামীমের ঘরে কেচি গেটের তালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইলসেট। রিয়াজের বাড়ি থেকে মোবাইল ও ২ ভরি রূপার নুপুর। হালিমের বাড়ি থেকে মোবাইল। এছাড়াও উত্তর পাড়ার উত্তরপাড়ার নেওয়াজ আলী, সফি নেতা, মধ্যপাড়ার বিপ্লব, হাবিবর এর বাড়ি সহ ৭টি বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়েছে।তিরঞ্চ গ্রামের সমাজ সেবক বাবুল রেজা বলেন, চুরি হওয়া প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় একই কৌশলে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে চোরচক্র। এতে গ্রামবাসীর মাঝে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।ফুলকী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ৭ জুন দিন গত রাতেই ৭টি বাড়িতে চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে মানুষ যখন ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে তখন কাঁচা বাড়ির সিঁধ কেটে আর পাকাবাড়ির দরজার কাছের টিন কেটে ও তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা-পয়সা, দামী দামী মোবাইল সেট, সোনা-রূপার অলংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এ কয়দিনে গ্রামের ৭টি বাড়িতে চুরির ঘটনায় গ্রামবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই দিনমজুর, ভ্যান, সিএনজি চালক, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি। এর মধ্যে প্রবাসীদের বাড়িও রয়েছে। তাদের কষ্টার্জিত টাকা পয়সা, সোবাইল ফোন ও স্বর্নালঙ্কারসহ বিভিন্ন প্রকার জিনিসপত্র হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভীষণ বিপাকে পড়ছে অনেকেই। আমি ৮ জুন থেকে গ্রামের ৩০ জন সেচ্ছাসেবক নিয়ে নিজেই রাত জেগে পাহারা দিতেছি। বিষয়টি থানায়ও জানিয়েছি। থানায় ভুক্তভোগীদের নিয়ে যেতে বলছে কিন্তু কেউ যেতে রাজি হয় নাই।

গত ৮ জুন রাতে চুরি হওয়া ভুক্তভোগী নেওয়াজ আলী বলেন, আমার ঘরে বেড়া কেটে ঘরে ঢুকেছিলো সবকিছু এলোমেলো করে গেছে কিছু নেয় নাই। নাই। নাই। নাই। তিনি বলেন ‘চোরেরা সাধারণত গভীর রাতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে। তারা নানা কৌশল অবলম্বন করে বাসা বাড়ির মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। চোরের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। সব সময় আশঙ্কায় থাকতে হয়। আমরা দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ কামনা করি।’

সুরাবড়ি গ্রামের বাসিন্দা গণি মিয়া বলেন, বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তার ঘরে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে দুইটি মোবাইল ফোন ও ১০ হাজার টাকা ও কিছু গহনা নিয়ে গেছে।

গত ৬ জুন চুরি হয় হায়দার মিয়ার বাড়িতে। তার ছেলে জাকির হোসেন বলেন চোরেরা ঘরের দরজার পাশের টিন কেটে হাত দিয়ে দরজার খিল খুলে ঘরে ঢুকে একটি এনড্রয়েট মোবাইল ও আমার ভাবির গলার স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়ে যায়। তখন চোরেরা আমাদের অন্যান্য ঘরে বাহির থেকে দরজার শিকল আটকে রেখেছিল। এ ব্যাপারে থানায় সাধারন ডাইরি (জিডি) করতে গেলে আমাকে অভিযোগ লিখে নিতে বলে। আমি অভিযোগ লিখতে পারি না, তাই জিডি করা হয় নাই। তিনি বলেন কিছুদিন আগেও আমার মায়ের কানের লতি ছিড়ে স্বর্ণের গহনা নিয়ে একই ভাবে পালিয়ে যায় চোর। তার দেড় মাস আগে বিদেশ থেকে আনা দুইটা দামী মোবাইল চুরি হয়। এ নিয়ে আমাদের প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে।

ফুলকি ইউপির চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, 'তিরঞ্চ গ্রামে দুই রাতে চুরির ঘটনায় গ্রামসহ এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। চুরির আতঙ্কে ভুগছে এলাকার সাধারন মানুষ। চক্রটিকে হাতেনাতে ধরার জন্য ঘোপনে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রাম পুলিশদের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।’

এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ এ বিষয়টি আমার জানানেই। কেউ আমাকে জানায়নি। তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শিঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।