Quantcast
  • শনিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

শিরোনাম

অস্বাভাবিক’ টাকা চাইছে বেসরকারি হাসপাতাল: তথ্যমন্ত্রী


সাতকাহন | আপডেট: ১৬:১৬, মে ১৭, ২০২০
 
 
 
 


মহামারীর মধ্যে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা দিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারের কাছে ‘অস্বাভাবিক’ টাকা দাবি করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, “হাসপাতালের উদ্দেশ্য যদি বাণিজ্য হয় তাহলে সেটিকে হাসপাতাল বলা কঠিন।”

শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতাদের মাঝে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন মন্ত্রী।

করোনাভাইরাসের সংকটে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ভূমিকাকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, “খুবই দুঃখজনক যে, প্রাইভেট হাসপাতালগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য যেভাবে এগিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল, সেভাবে তারা আসেনি।

“অনেকগুলো হাসপাতাল তারা নিজেরাই অনেকটা বন্ধ করে রেখেছে। সেখানে কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী গেলে তাকে সহায়তা তো দূরের কথা অন্য জায়গায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখছি।”

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর এই আচরণকে ‘অত্যন্ত অমানবিক’ আখ্যায়িত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য।”

তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকারের পক্ষ থেকে যখন কোন হাসপাতালে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা করার জন্য বলা হয় তখন অস্বাভাবিক টাকা দাবি করা হয়। ২০০ বেডের একটি হাসপাতাল মাসে ১৭ কোটি টাকা দাবি করেছে। একই সাথে ডাক্তার ও নার্সদের থাকা-খাওয়ার টাকাও দাবি করেছে, যেটি অস্বাভাবিক।

“এই সময়ে আমি আশা করব, বেসরকারি হাসপাতালগুলো সেবার মানসিকতা নিয়ে জনগণের সেবায় এগিয়ে আসবেন। বাণিজ্যের মানসিকতাটা পরিত্যাগ করবেন। এখানে ব্যতিক্রমও আছে; সে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছে।

“কিছু কিছু বেসরকারি হাসপাতাল এগিয়ে আসছে তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি আমি আশা করব, অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাদের অনুসরণ করবে।”

গত মার্চের প্রথম দিকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা সেবা সীমিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে চিকিৎসকরা সুরক্ষা সরঞ্জাম চাইলে তা না দিয়ে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের চাকরিচ্যুতিসহ দমনের নানা পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হলে সেই তথ্য গোপন করার চেষ্টার অভিযোগও আসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

এদিকে নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মহখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করে দেয় সরকার। তবে এখনও এসব হাসপাতালে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা শুরু হয়নি।

সরকার মানুষের জীবন বাঁচাতে ‘কোনো ব্যবস্থা নেয়নি’ বলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, “বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রতিদিনই নানা ধরনের মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। সরকার যে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে, মানুষকে করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যাতে লোক ক্ষয় না হয় এজন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সরকারের যে ভালো কাজগুলো সেগুলোকে প্রশংসা না করে বরং সেগুলোর সমালোচনায় প্রতিদিন তারা ব্যস্ত।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে মৃত্যু হার ভারতের অর্ধেকের চেয়ে কম, পাকিস্তানের চেয়েও কম। এই মৃত্যু হারটা গণনা করা হয় কতজন রোগী শনাক্ত হলো আর কতজন মৃত্যুবরণ করেছে তার উপর। শনাক্তের কতভাগ মৃত্যুবরণ করেছে।

“বাংলাদেশে শনাক্তের ১.৪৮ পার্সেন্ট মৃত্যুবরণ করেছেন, ভারতে ৩.২ পার্সেন্ট, পাকিন্তানে ২.১৪ পার্সেন্ট, আমেরিকায় ৫.৯২ পার্সেন্ট, যুক্তরাজ্যে ১৪.৩৬ পার্সেন্ট, স্পেনে ১০ পার্সেন্ট, ইতালিতে ১৪.১১ পার্সেন্ট। অর্থাৎ এই তথ্য উপাত্তই বলে বাংলাদেশে মৃত্যু হার আশপাশের দেশগুলো থেকে তো কম বটেই পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে ইউরোপ-আমোরিকার চেয়ে অনেক অনেক কম।”

মন্ত্রী বলেন, “সরকার মানুষকে বাঁচানোর জন্য যথপোযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিধায় এই মৃত্যু হার কম রাখা সম্ভব হয়েছে। এবং সরকার যেভাবে নানাধি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেটির প্রশংসা করেছে, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম প্রশংসা করেছে, ইকোনোমিস্ট পত্রিকা প্রশংসা করেছে, ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রশংসা এসেছে। প্রশংসা করতে পারে না শুধু বিএনপি।”